বিশ্বজিত দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার মাঝরাতে নদীয়ার নবদ্বীপের প্রায় নয়টি ঘাটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মাঝে শুরু হয় রাধাকুন্ডের স্নান। রাধাকুণ্ড স্নান হলো হিন্দু বৈষ্ণব ধর্মের অন্যতম পবিত্র একটি আচার, যা উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার গোবর্ধন পাহাড়ের কাছে অবস্থিত রাধাকুণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই স্নান উৎসব পালিত হয়, শাস্ত্রমতে, এই পবিত্র কুণ্ডে যাঁরা মধ্যরাতে বা ভক্তি সহকারে স্নান করেন, তাঁরা রাধা-কৃষ্ণের তীব্র প্রেম-ভক্তি লাভ করেন। ভগবান কৃষ্ণ অরিষ্টাসুর অসুরকে বধ করার পর সমস্ত পবিত্র নদীকে আহ্বান করে নিজের চরণাঘাত দিয়ে একটি কুণ্ড তৈরি করেন, যা শ্যামকুণ্ড নামে পরিচিত। এরপর রাধারাণী ও তাঁর সখীগণ তাঁদের কাঁকনের সাহায্যে পাশেই আরেকটি কুণ্ড খনন করেন, যেখানে শ্যামকুণ্ডের জল প্রবাহিত হয়ে রাধাকুণ্ড তৈরি হয়।

অতীত কাল দেখে এই স্নান উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার গোবর্ধন পর্বতের কাছে রাধা কুন্ডের হয়ে আসলেও, মুরারী বাবা নামের নবদ্বীপের এক বৈষ্ণব সাধু মহারাজ, নবদ্বীপের রানী রাসমণি বিজড়িত ঘাট রানির ঘাটে কার্তিক মাসের বহুলা অষ্টমী তিথিতে এই স্নানের প্রচলন করেন। আর তবে থেকেই হয়ে আসছে নবদ্বীপের পাশ দিয়ে বয়ে চলা সুরধনী গঙ্গায় এই পণ্য স্নান। বেশ কিছু বছর ধরে এই স্নান বড়ই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। যার জেরে দেখা যাচ্ছে যে নবদ্বীপ শহরের আশেপাশের গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে দূর দূরান্তের পর্যটকরা অংশগ্রহণ করছেন এই স্নানে। তাই বর্তমানে এই স্নানকে ঘিরে বৈষ্ণব ভক্তদের উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও নবদ্বীপ শহরে বিভিন্ন ঘাটে ভিড় জমাতে শুরু করেন। কোন অপ্রীতিকর অবস্থা যাতে না ঘটে শনিবার নবদ্বীপ পৌরসভা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবদ্বীপের নয়টি ঘাটে বাস ও জাল দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। ভিড়ের চাপ কমানোর জন্য নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুরে এক অস্থায়ী ঘাটের ব্যবস্থা করেছিল প্রশাসন।

এদিন রাত বাড়তেই প্রত্যেকটা ঘাটে পুলিশ ফোর্স করতে গিয়ে শুরু করে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়। সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় নবদ্বীপ রানীর ঘাটে, এবং ভিড়ের কারণে প্রচন্ড বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। স্নান করতে আসা মানুষজনের মাঝে ব্যাপক ঠেলা ঠেলি হলেও, কড়া হাতে ভিড়ের বিশৃঙ্খলা সামাল দেন উপস্থিত নবদ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক বরুণ গায়েন সহ সমগ্র পুলিশ ফোর্স। ঘাটের স্নান করতে আসা বৈষ্ণব ভক্তদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে জলের উপর স্পিড বোর্ড নিয়ে সতর্ক থাকতে দেখা যায়।