নেপালে প্রথমবারের মতো শুরু হতে চলেছে কাঠমান্ডু ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (KFF)। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই তিন দিনের চলচ্চিত্র উৎসব। এই উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বর্ষীয়ান ভারতীয় অভিনেত্রী শাবানা আজমি। তাঁর পাশাপাশি থাকবেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক ও ইতিহাসবিদ মার্কো মুলার।

কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই চলচ্চিত্র উৎসবে ১৪টি দেশের মোট ৪০টি ছবি দেখানো হবে। এশিয়া-সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পরিচালক, শিল্পী এবং সিনেমাপ্রেমীরা এই উৎসবে অংশ নেবেন। সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হল নেপাল-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীন ধারার সিনেমাকে তুলে ধরা। পাশাপাশি সিনেমা ও গল্প বলার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা।
ইউনেস্কোর ‘ক্রিয়েটিভ সিটি অফ ফিল্ম’-এর স্বীকৃতি পাওয়া কাঠমান্ডুতে এই প্রথম এমন চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সিনেমা এবং নতুন নতুন ভাবনাকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। উৎসবে থাকছে ইন্টারন্যাশনাল প্যানোরামা, নেপাল প্যানোরামা শর্টস, পুরনো নেপালি ছবির বিশেষ প্রদর্শনী এবং খোলা আকাশের নিচে সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বিভাগের ছবিগুলির মধ্যে রয়েছে মেরিন আতলানের ‘লা গ্রাদিভা’, যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এছাড়াও রয়েছে শাহরবানু সাদাতের ‘নো গুড মেন’, যা চলতি বছর বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়।
আন্তর্জাতিক বিভাগের ছবির নির্বাচন প্রসঙ্গে উৎসবের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর রাম্যতা লিম্বু জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমসাময়িক ও স্বাধীন ধারার সিনেমা এই বিভাগে স্থান পেয়েছে। এই ছবিগুলিতে উঠে আসবে নানা ধরনের শক্তিশালী গল্প, ভিন্ন ভাবনা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির পরিচয়। অন্যদিকে, নেপাল প্যানোরামা শর্টস বিভাগে নেপালের নতুন প্রজন্মের পরিচালকদের তৈরি বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি দেখানো হবে।
এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ নেপালের চলচ্চিত্রের ইতিহাস। ১৯৭০ এবং ১৯৮০-এর দশকে তৈরি বেশ কিছু পুরনো নেপালি ছবি নতুন করে সংস্কার করে দেখানো হবে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘কুমারী’। ছবিটিকে নেপালের প্রথম রঙিন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও জাপানের ইয়ামাগাতা শহরের সিনেমা নিয়েও থাকছে বিশেষ বিভাগ। উল্লেখ্য, ইয়ামাগাতাও ইউনেস্কোর ‘ক্রিয়েটিভ সিটি অফ ফিল্ম’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। নেপাল ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে।
কাঠমান্ডুর একাধিক জায়গায় এই উৎসবের আয়োজন করা হবে। বাসন্তপুর, সিটি হল, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড, জয় নেপাল সিনেমা এবং তারাগাঁও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ ও স্থানে ছবিগুলি দেখানো হবে। শুধু সিনেমা প্রদর্শন নয়, উৎসবে থাকছে হেরিটেজ ওয়াক, মাস্টার ক্লাস এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা। পাশাপাশি যুব সম্প্রদায়ের ভিডিও চ্যালেঞ্জ এবং নেপাল প্যানোরামা বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। দর্শকদের জন্য ছবির প্রদর্শনী বিনামূল্যে হলেও কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম বুকিং করতে হবে।
কাঠমান্ডুর ভারপ্রাপ্ত মেয়র সুনীতা ডাঙ্গোল জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্র উৎসব শহরের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যকে উদযাপন করার একটি বড় সুযোগ। তাঁর কথায়, কাঠমান্ডু শুধু আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শহর নয়, নেপালের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সংস্কৃতিও এই শহরকে সমৃদ্ধ করেছে। বিভিন্ন প্রজন্ম ধরে নানা ভাষা, শিল্প, গান, ঐতিহ্য ও গল্প নিয়ে মানুষ এখানে এসেছেন। আর এই বৈচিত্র্যই কাঠমান্ডুকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন মেয়