বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগেই নাটকীয় মোড়। ভোটের প্রচারের শেষ দিনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। বুধবার ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে জাহাঙ্গীরের এই সিদ্ধান্তের কথা ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

প্রসঙ্গত, একাধিক ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর খানকে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Sougata Bhattacharya) নির্দেশ দিয়েছিলেন, ২৬ মে পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মতো কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচটি এফআইআর-এর ক্ষেত্রেই এই রক্ষাকবচ কার্যকর ছিল। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্বাচন কমিশনের সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে তাঁকে। ভোটারদের প্রভাবিত করা বা হুমকি দেওয়া চলবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পুনর্নির্বাচনের আগে তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পুলিশি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন জাহাঙ্গির খানের ভায়রাভাই এবং ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ঘিরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লক গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তপ্ত ছিল। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)।
কিন্তু সেই ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর। এই পরিপ্রেক্ষিতে জাহাঙ্গীর জানাচ্ছেন, তিনি ফলতার মানুষের স্বার্থে, শান্তির স্বার্থে, সোনার ফলতা গড়ার স্বার্থে ভোট লড়া থেকে সরে দাঁড়াবেন।
তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan) বনাম পুলিশ অবজার্ভার আইপিএস অজয় পাল শর্মার একে অপরের বিরুদ্ধে তোলা আওয়াজ শোরগোল ফেলেছিল নানা মহলে। অজয় পাল শর্মাকে সিংঘম বলে অভিহিত করায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাহাঙ্গীর বলেছিলেন, ‘তিনিও তবে পুষ্পা। পুষ্পা ঝুঁকবে না।’ তারপর রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। মাস ঘোরার আগেই দেখা গেল, ঝুঁকব না বললেও, ঝুঁকেই গেলেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান।
এদিকে মঙ্গলবার ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে রাজনৈতিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের পাশে থাকার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে তিনি নির্দেশ দেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের তালিকা সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে।
প্রচারের ফাঁকে এ দিন ফলতার বাণেশ্বর শিবমন্দিরে পুজো দেন শুভেন্দু। পরে ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেখানে মধ্যাহ্নভোজও সারেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার পুনর্নির্বাচন ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত এখন চরমে পৌঁছেছে।