তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে গোপন রাজনৈতিক আঁতাত রয়েছে! বারুইপুরের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভা থেকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিস্থিতি—একাধিক ইস্যুতে এদিন সরব হন তিনি। সভার মঞ্চ থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’ যদিও কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।

বিশ্বজিত নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা
শুক্রবার বারুইপুরে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই সভায় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একাধিক বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মথুরাপুর, যাদবপুর, ডায়মন্ড হারবার এবং জয়নগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্ব ও কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক। সভাকে ঘিরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত ছিল চোখে পড়ার মতো।

জনসভার মঞ্চ থেকে তৃণমূল ও সিপিএমের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাংলাকে বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়েই একসময় তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি হয়েছিল। সেই তৃণমূলই এখন সিপিএমের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং সিপিএমের বেবির সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক গুরুত্ব না পেয়ে এখন দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চলছে।
তৃণমূলের অতীত রাজনৈতিক অবস্থানের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, একসময় অটলবিহারী বাজপেয়ীর আশীর্বাদ ছিল তৃণমূলের উপর। অথচ বর্তমানে সেই তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। রাজনৈতিক পরাজয়ের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। বিহার ও ওড়িশার রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা টেনে তৃণমূলকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে ‘এঁচোড়ের পাকা ভাইপো’ বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। ফলতার নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে ইলেকট্রিক চুল্লি নিয়ে মন্তব্যের অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি দক্ষিণ ২৪ পরগনা জুড়ে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করার অভিযোগও তোলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে তাঁর দাবি, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি। সাংসদদের ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। সাত লক্ষ ভোটে জেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাংসদ কোথায়? পুজোর সময় রাজনৈতিক আমন্ত্রণ না পাওয়া নিয়েও ব্যঙ্গ করেন তিনি। রামমন্দির এবং নন্দীগ্রাম-ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ জানান মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘আপনাদের মনে প্রশ্ন আছে, বড় চোরটা কবে যাবে। সময়টা একটু দেখে সব ঠিকঠাক করে করতে হয়। বড় চোর যাবে, চিন্তার কোনও কারণ নেই।’ পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঘিরেও একাধিক কটাক্ষ করেন তিনি। বারুইপুরের এই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ জনসভা থেকে তৃণমূল ও সিপিএমকে একযোগে আক্রমণ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈ