ভয়াবহ বন্যার দশ দিন পরেও মিলছে ‘অলৌকিক’ উদ্ধারের খবর। শনিবার নেপালের অপর ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হল এক বিদেশি নাগরিককে। একই দিনে নুয়াকোট জেলার বেত্রাবতী এলাকা থেকে আরও এক মহিলাকে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর যৌথ দল। নেপাল সেনা ও পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়েছে।

নেপাল সেনার প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, সুড়ঙ্গ থেকে এক ব্যক্তিকে বার করে হেলিকপ্টারের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পরীক্ষা করেন। অন্য দিকে, নুয়াকোটের বিদুর এলাকার বেত্রাবতী-১০ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এক মহিলাকে।
এর আগের দিন, শুক্রবার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল আরও দু’জনকে। তাঁদের নাম সঞ্জয় সাহ, যিনি যন্ত্রকুশলী ফোরম্যান, এবং কবীর মহার্জন, যিনি মেকানিক্যাল সুপারভাইজার বলে জানা গিয়েছে।
গত কয়েক দিনের ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানে নেপালে অন্তত ১,৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বহু মানুষ এখনও বিচ্ছিন্ন এলাকায় আটকে রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হেলিপ্যাডের কারণে উদ্ধারকাজে একাধিক বাধা তৈরি হলেও সেনা ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলি তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ২০টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে নেপাল সেনা। পাশাপাশি, তাড়ি নদীর উপর অস্থায়ী দড়ির সেতু তৈরি করে বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। নুয়াকোটের একটি অস্থায়ী হাসপাতালকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে পাশে রয়েছে ভারতও। রাসুয়া জেলার চিলিমে সুড়ঙ্গে জমে থাকা জল বার করে গভীরে খনন চালাচ্ছেন ভারতীয় টানেল-রেসকিউ বিশেষজ্ঞরা। নেপাল সেনার সঙ্গে সমন্বয় করে চলছে এই কাজ। নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সাহায্য নিয়েও নেপালের পাশে রয়েছে ভারত।