বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব আর নতুন জামাকাপড়ে সেজে ওঠার দিন। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতায় যাঁদের জীবন থেকে রঙের ছোঁয়া কেড়ে নিয়েছে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল ও বাঘের আতঙ্ক, সেই সমস্ত “রক্তে গড়া মা দুর্গা”সম ব্যাঘ্র-বিধবাদের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য উদ্যোগ নিল সোনারতরী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট। এবছর পুজোর আনন্দকে ভাগ করে নিতে সুন্দরবনের প্রায় ৫০০ জন ব্যাঘ্র-বিধবা মায়ের হাতে নতুন বস্ত্র (শাড়ি) তুলে দিল এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আগেই অঙ্গীকার করা হয়েছিল যে, এই দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে সুন্দরবনের এই অসহায় মায়েদের নতুন পোশাকে সাজিয়ে তোলা হবে। সেই কথা রেখেই সংগঠনের কর্মীরা ৫০০ জন মায়ের হাতে উৎসবের নতুন শাড়ি তুলে দেন। সংস্থার এই কার্যক্রমে মায়েদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক।
সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল ও নদী-খালে মাছ, কাঁকড়া ধরতে কিংবা মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিবছর বহু মানুষ বাঘের আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে ওই পরিবারগুলি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়ে। স্বামীর মৃত্যুর পর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে ঘোর অন্ধকারে তলিয়ে যায় এই পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ।

শুধুমাত্র উৎসবের দিনে নতুন বস্ত্র বিতরণে সীমাবদ্ধ নয় সোনারতরী চ্যারিটেবল ট্রাস্টের কাজ। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে এই সমস্ত অসহায় ব্যাঘ্র-বিধবাদের পাশে নিরলসভাবে দাঁড়িয়েছে সংগঠনটি। ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পুজোর নতুন জামাকাপড় ছাড়াও এই মায়েদের সুরক্ষায় প্রতিমাসে ‘ব্যাঘ্র-বিধবা ভাতা’ প্রদান করা হয়।এছাড়াও আগামী দিনেও সুন্দরবনের এই দুস্থ ও অবহেলিত পরিবারগুলির পাশে থাকার এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সর্বতোভাবে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছে ট্রাস্ট।এছাড়াও আগামী দিনেও সুন্দরবনের এই দুস্থ ও অবহেলিত পরিবারগুলির পাশে থাকার এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সর্বতোভাবে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছে ট্রাস্ট। সোনারতরী চ্যারিটেবল ট্রাস্টের এই নিরলস ও সহানুভূতিশীল প্রচেষ্টা সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অসহায় মানুষগুলোর জীবনে এক গভীর ভরসার জায়গা তৈরি করেছে, যা সমাজের অন্যান্য মহলের কাছেও এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।