মার্চে অবশ্যম্ভাবী মৃত্যুসুনামি ভারতে! ৫৫০০০ প্রাণ নেবে সুপার এল নিনো, ৬ মাসে আরও ৩৭৩০০০! দেশ কাঁপিয়ে ভয়াল ভবিষ্যদ্বাণী।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ‘ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব’ (Climate Impact Lab) এবং জলবায়ু ট্র্যাকার মডেলগুলোর প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী ও ভারতে ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Niño)-র মারাত্মক প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। তবে সংবাদ শিরোনামে ব্যবহৃত “মৃত্যুসুনামি” কথাটি জলবায়ু মডেলে পূর্বাভাস দেওয়া ‘অতিরিক্ত তাপজনিত সম্ভাব্য মৃত্যু’ (Excess Heat-Related Mortality) নির্দেশ করার জন্য একটি অলঙ্কারিক রূপক মাত্র; এটি কোনো প্রকৃত ভূকম্পনজনিত সমুদ্রের জলচ্ছাস বা সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টিযুক্ত প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়।
১. মূল পূর্বাভাস ও পরিসংখ্যান
ভারতে ৫৫,০০০ মৃত্যু (মার্চ নাগাদ): গবেষণার হালনাগাদ ডাটা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে চলতি মৌসুম থেকে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ভারতে প্রায় ৫৫,০০০ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে। মূলত আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ তাপমাত্রা এবং মার্চ মাসকে নতুন করে মডেলে যুক্ত করায় পূর্বের অনুমানের (১৫,৮০০ মৃত্যু) তুলনায় সংখ্যাটি বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে ৬ মাসে ৩,৭৩,০০০ থেকে ৪,৫১,০০০ মৃত্যু: এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী আগামী ৬ মাসে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিকের মধ্যে চরম আবহাওয়া ও অসহ্য গরমের কারণে অতিরিক্ত ৩.৭ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহ: শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় নাইজেরিয়ার (প্রায় ৫৬,০০০ মৃত্যু) পরেই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিলও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
২. কী এই ‘সুপার এল নিনো’ এবং কেন এত ঝুঁকি?
প্রশান্ত মহাসাগরের অতি-উষ্ণতা: এল নিনো এমন একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবরেখা অঞ্চলের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। যখন এটি চরম মাত্রায় পৌঁছায়, তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলা হয়।
চরম খরা ও শীতকালে অসহ্য গরম: ১৯৫০ সালের পর এটি অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়াব্যাপী স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত, তীব্র খরা, আর্দ্র আবহাওয়া এবং শীতের সময়েও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে।
বায়ুদূষণ ও বাতাস নিষ্ক্রিয়তা: উদাহরণস্বরূপ, এই সময়ে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে মুম্বাইয়ের মতো বিশাল উপকূলীয় শহরগুলোতে স্বাভাবিক বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়ে মারাত্মক বায়ুদূষণ ও বিষাক্ত ধোঁয়াশা তৈরি হতে পারে।
৩. বৈজ্ঞানিক সত্যতা ও সতর্কতা
পরিসংখ্যানগত মডেল প্রাক্কলন: গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন যে, এই ৫৫,০০০ বা ৩,৭৩,০০০ সংখ্যাটি কোনো অবধারিত বা স্থির হিসাব নয়। এটি ঐতিহাসিক ডেটা (১৯৯৬–২০২৫) এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পর্কিত পরিসংখ্যানগত সিমুলেশনের ভিত্তিতে তৈরি একটি ঝুঁকি মূল্যায়ন মডেল।
ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের উপায়: গবেষক ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) উল্লেখ করেছে যে এই ধরনের পূর্বাভাসের উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয়, বরং নীতি-নির্ধারকদের সতর্ক করা। যথাযথ সতর্কতা ব্যবস্থা, আগাম কুলিং সেন্টার স্থাপন, পানীয় জলের সরবরাহ বৃদ্ধি, খোলা আকাশে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা এবং স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠন করার মাধ্যমে এই মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব।