মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: একজন সাধারণ গৃহবধূ।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সংসার সামলানোতেই দিনে অধিকাংশ সময় ব্যয় করেন। তবে আর পাঁচজন গৃহবধূর মত নিজের অস্তিত্বকে সংসারে জাঁতাকলে হারিয়ে ফেলেন নি বাঁকুড়া শহরের কেন্দুয়াডিহির বাসিন্দা অর্পিতা সরকার। হাতে রয়েছে নিখুঁত শিল্পসত্ত্বা। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিবছর নিজের প্রতিভায় ভর করে নানা রূপে ফুটিয়ে তোলেন দশভূজাকে।ঘরোয়া সামগ্রি আর নিখুঁত শিল্পকর্ম। তাতেই সযত্নে সেজে ওঠেন মহিষাসুরমর্দিনী।মাত্র একটি ১০ টাকার কয়েনের ওপর তৈরি এই ছোট্ট দুর্গা। সঙ্গে লেগেছে টিসু পেপার, আঠা, রং, ধানের সাধারন সরঞ্জাম। সংসারের কাজের মাঝে যেটুকু সময় পাওয়া যায় , তারই মাঝে অল্প অল্প করে ফুটিয়ে তুলছেন দেবিকে।গোটাটাই তার ভালবাসা।

শুধু মাত্র এবছরই নয়, প্রতিবছরই এইরকমই সাধারন সামগ্রির মাধ্যমে অর্পিতা সরকার ফুটিয়ে তোলেন তাঁর অসাধারন প্রতিভা। বাঁকুড়া শহরের কেন্দুয়াদিহির বাসিন্দা অর্পিতার রয়েছে দুই সন্তান, স্বামী। নিজের হাতেই সামলান সংসারের যাবতীয় খুঁটিনাটি। এই দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি অবসর সময় কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু হাতের কাজ সারেন তিনি। বিগত ১০ বছর ধরে সংসারেরই নানান টুকিটাকি জিনিস দিয়ে দুর্গাপুজোর আগে দুর্গা-প্রতিমা বানিয়ে আসছেন। অর্পিতা সরকার জানিয়েছেন এই ধরনের মূর্তি তৈরির জন্য তিনি কোনও প্রথাগত শিক্ষা নেননি। একনজরে দেখে নেব বিগত বছরগুলিতে তার প্রতিভার নিদর্শন।

এর আগের বছরগুলোতে খবরের কাগজ, তেজপাতা, খড়, ভুট্টোর খোসা ও রসুনের ছাল দিয়েও ডোকরার আদলে প্রতিমা বানিয়ে নিজের বাড়িতেই এক দারুণ আর্কাইভ গড়ে তুলেছেন। মাটি ব্যবহার না করে শুধুমাত্র সরকাঠি দিয়ে মাত্র ১.৭ ইঞ্চি ও ১৫ গ্রাম ওজনের একচালার সম্পূর্ণ দুর্গা পরিবার তৈরি করেছেন তিনি।আখের ছিবড়ে দিয়ে তৈরি করেছেন দুই অংশের এক বিশেষ দুর্গা প্রতিমা, যেখানে একদিকে রয়েছে দেবী দুর্গার অসুর বধের রূপ এবং অন্যদিকে নির্যাতিতা নারীর প্রতিবাদের রূপ।বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা মাটি দিয়ে মাত্র ১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের পরিবার-সহ মা দুর্গার মূর্তি গড়েছেন।ছৌ মুখোশের আদলে মুখের গড়ন দিয়ে মানুষের হাতের আঙুলের মাপে ছোট দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছিলেন। উৎসবের বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। তার আগে নিজের ইচ্ছে আর চেষ্টাকে সম্বল করে ১০ টাকার কয়েনের ওপর তৈরি হওয়া ছোট্ট দুর্গা রীতিমতো তাক লাগিয়েছে।ইতিমধ্যেই যা সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ‘ভাইরাল’!