নির্বাচনী তালিকা থেকে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের আবহে এ বার ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ মন্ত্রে বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে ওই তিনটি শব্দ পোস্ট করেন কংগ্রেস নেতা। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ পদযাত্রা ও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। তার কয়েক দিন আগেই রাহুলের এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

শৈব ঐতিহ্যে কপালে ভস্ম দিয়ে আঁকা তিনটি অনুভূমিক রেখাকে ত্রিপুণ্ড্র বলা হয়। এর সঙ্গে শিবের ইচ্ছাশক্তি, জ্ঞান ও কর্মশক্তির প্রতীকী যোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন গবেষকেরা। ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ কথাটির অর্থ সত্য, মঙ্গল ও সৌন্দর্য। রাহুলের পোস্টে শিবের সেই ত্রিপুণ্ড্র তিলকের ছবিই তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রসঙ্গে শিব তাণ্ডবের উপমা দিয়েছিলেন রাহুল। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই আন্দোলনের জন্য কোনও বাঁধাধরা পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিবাদের ধরন বদলাবে, কিন্তু আন্দোলন চলবে। রাহুলের কথায়, “এই নৃত্য চলছে। এটি ভগবান শিবের নৃত্য। যে কেউ শিবের বরযাত্রায় যোগ দিতে পারেন।” নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য সকলকে আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
২০২৪ সালের ১ জুলাই লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের বিতর্কেও শিবের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন রাহুল। শিবের ছবি হাতে নিয়ে তিনি দেবতাকে নির্ভীকতা, অহিংসা ও সত্যের প্রতীক হিসাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি ‘অভয়মুদ্রা’র উল্লেখ করে সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সাহসের কথা বলেছিলেন কংগ্রেস নেতা।
আগামী ১ নভেম্বরের সমাবেশে ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, মহিলা, যুবক ও ব্যবসায়ীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়মকানুন লঙ্ঘিত হচ্ছে। সোমবার দিল্লির ব্যবসায়ীদের উদ্দেশেও বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিও তোলেন রাহুল। তাঁর দাবি, ভোটাধিকার বিপন্ন হলে দোকান, সঞ্চয় থেকে ভবিষ্যৎ—কোনও কিছুই সুরক্ষিত থাকবে না।