প্রতিবাদ-বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আন্দোলনকারীদের থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিল দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার মনজিৎ শেরাওয়ান অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমের কিছু কর্মী সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিক্ষোভেও অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে পুলিশের কাজে বাধা তৈরি হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে দিল্লি পুলিশের বার্তা, ‘সাংবাদিকতার নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিকতাকে গড়াগড়ি খেতে দেবেন না।’

শুক্রবার শেরাওয়ান বলেন, “কিছু মানুষ এক দিন সাংবাদিক পরিচয়ে আসেন, পরের দিনই প্রতিবাদী হয়ে যান। আমরা বার বার তাঁদের আবেদন জানাই, বিক্ষোভকারীদের থেকে কিছুটা দূরে থেকে খবর সংগ্রহ করুন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা মাঝখানে চলে আসেন এবং আমাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করেন।” তবে পুলিশের এই বক্তব্য ঘিরে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা এবং বিক্ষোভস্থলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন তিন মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। ওই তিন মহিলা নিজেদের সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, আটক করার সময়ে পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীরা তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। যৌন হেনস্থার অভিযোগও সামনে আসে।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব জানিয়েছিলেন, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তিন মহিলা অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং চিকিৎসা পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় ক্রাইম ব্রাঞ্চকে।
এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে নোটিস পাঠিয়েছে কমিশন। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ সত্য হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর বিষয়। ফলে এক দিকে সাংবাদিকদের বিক্ষোভস্থলে পুলিশের কাজে বাধা না দেওয়ার বার্তা, অন্য দিকে সাংবাদিকদেরই হেনস্থার অভিযোগ—দুইয়ের টানাপড়েনে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।