বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলার লোকসংস্কৃতি আর উন্নয়নের মেলবন্ধন বরাবরই জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই ধারাকে বজায় রেখেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর দ্বীপের আমূল পরিবর্তনের চিত্র এবার ধরা পড়ল প্রখ্যাত শিল্পী সাধন দাসের কণ্ঠে। তথাকথিত নীরস সরকারি খতিয়ান নয়, বরং সুর ও তালের জাদুতে তিনি তুলে ধরেছেন একসময়ের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ‘গঙ্গাসাগর’-এর আধুনিক হয়ে ওঠার গল্প।
গানে গানে উন্নয়নের কোলাজ : শিল্পী তাঁর নতুন সৃষ্টিতে সুন্দরবনের কঠিন ভৌগোলিক বাস্তবতাকে জয় করার কাহিনী বুনেছেন। গানের কলিতে উঠে এসেছে।

স্বপ্নপূরণের গঙ্গাসাগর সেতু: কয়েক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুড়িগঙ্গা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের কর্মযজ্ঞকে গানের মূল উপজীব্য করেছেন তিনি।
জনমুখী প্রকল্পের ছোঁয়া: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘সবুজ সাথী’—রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প কীভাবে দ্বীপের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করেছে, তা অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সুরে।
অবকাঠামোর উন্নয়ন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উন্নত মানের পিচ ঢালা রাস্তার প্রসারে দ্বীপের চেহারা যে বদলে গেছে, গানের ছত্রে ছত্রে রয়েছে তার বর্ণনা।
নেতৃত্বের দিশারি: বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা
গায়ক সাধন দাস তাঁর লেখনীতে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন বর্তমান সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সাগরের ভূমিপুত্র ও বিধায়ক বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার ভূমিকার কথা। শিল্পীর মতে:
”নেতৃত্বের সঠিক সদিচ্ছা থাকলে কীভাবে একটি দুর্গম এলাকাও উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে পারে, সাগর তার জীবন্ত উদাহরণ। বঙ্কিমবাবুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ সাগরবাসী মূল ভূখণ্ডের সাথে মানসিকভাবে আরও কাছাকাছি আসতে পেরেছে।”
”পরিবর্তনের জয়গান এখন মানুষের মুখে মুখে”
সাধন দাসের এই গানটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। একসময় যে সাগর দ্বীপ কেবল তীর্থযাত্রার জন্য পরিচিত ছিল, আজ তা পর্যটন এবং আধুনিক জীবনযাত্রার এক অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু।
উন্নয়নের মূল স্তম্ভগুলি যা গানে ফুটে উঠেছে:
ক্ষেত্র উন্নয়নের প্রভাব
যোগাযোগ মুড়িগঙ্গা সেতু ও ভেসেল পরিষেবার আধুনিকীকরণ।
শিক্ষা নতুন স্কুল ভবন ও উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান।
স্বাস্থ্য গ্রামীণ হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ ও টেলি-মেডিসিন পরিষেবা।
পর্যটন কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও ইকো-ট্যুরিজম।
শিল্পী সাধন দাসের এই সুরের ছোঁয়া কেবল বিনোদন নয়, বরং সাগরের মানুষের লড়াই এবং সাফল্যের এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। তাঁর এই গানের মাধ্যমেই উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে যাচ্ছে বাংলার ঘরে ঘরে।