মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ২০১৪ সালে নারদা স্টিং অপারেশনে তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের টাকার বান্ডিল নেওয়ার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল গোটা রাজ্যে। আবারও তেমনই ঘটনার পুনরাবৃত্তি তোলপাড় ফেলে দিয়েছে ভোটমুখী বঙ্গে। তবে এবার অভিযোগের তির তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা হুমায়ুন কবীরের দিকে। সদ্য ‘ আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নতুন দল গড়েছেন হুমায়ুন কবীর। যার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে- বিজেপির থেকে ১ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। মনে করা হচ্ছে ডিসেম্বরের কোনও একটা সময় এই স্টিং অপারেশন করা হয়েছিল। ঠিক ভোটের আবহে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হল এই ভিডিয়ো। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আরপ্লাস নিউজ। কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক বৈঠক করে ভিডিয়োটি সামনে এনেছেন। ভিডিয়োটি ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের দাবি, ওই ভিডিয়োয় হুমায়ুনকে বিজেপির কাছে ১০০০ কোটি টাকা চাইতে শোনা গিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই কথোপকথনে হুমায়ুন দাবি করছেন যে, রাজ্যের মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তাঁর দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারলে বিজেপির কাছে হিন্দু ভোট স্বাভাবিকভাবেই একত্রিত হবে। এমনকি, ভবিষ্যতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁকে সমর্থন করতে আপত্তি নেই বলেও ভিডিয়োয় মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের (Mohan Yadav) সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর তৃণমূলের তরফে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ভয়ঙ্কর বিষয় সামনে এসেছে। বিজেপি বুঝে গিয়েছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আবার জিতছেন। সেজন্যই ভোট ভাগ করার জন্য ‘বি’ টিম, ‘সি’ টিম তৈরি করছে।” তাঁর অভিযোগ, মুসলিম ভোট ভাঙতেই হুমায়ুন কবীরের মতো নেতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

একই সুরে সরব হয়েছেন কলকাতার মেয়র তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তিনি বলেন, “ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ভোট কেনাবেচার চেষ্টা চলছে। এটা লজ্জাজনক।” ফিরহাদের আরও অভিযোগ, মসজিদের নাম করে আবেগ উস্কে দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। মুসলিম সমাজের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “আমরা কি এতটাই বুদ্ধিহীন যে আমাদের ধর্মীয় আবেগ বিক্রি হয়ে যাবে?”
বিদায়ী ক্রীড়ামন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) দাবি, “বিজেপি আগেই হেরে গিয়েছে। তাই এখন টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে।” তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এবং বিজেপি ৫০টি আসনও পেরোতে পারবে না।
উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের রাজনীতিতে নারদ ও সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই নতুন করে এই ‘স্টিং’ ভিডিয়ো ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে।