বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : সোনারপুর এলাকায় ফুড সেফটি উইক উপলক্ষে প্রশাসনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল স্থানীয় বিভিন্ন হোটেল ও খাবারের দোকানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই অভিযান চলাকালীন একটি হোটেলে গিয়ে তদারকি করার সময় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চান। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ ট্রেড লাইসেন্স বা ফুড সেফটির জন্য বাধ্যতামূলক কোনো বৈধ অনুমতিপত্রই দেখাতে পারেনি।
আইন অনুযায়ী খাবার বিক্রি ও হোটেল ব্যবসার জন্য প্রশাসন ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের থেকে নির্দিষ্ট অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো রকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার নিয়ম অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালানোয় খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিকরা তাৎক্ষণিকভাবে হোটেলটি বন্ধের নির্দেশ দেন এবং সেটিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে একাধিক প্রশ্ন দানা বাঁধছে। যেমন-
নিরাপত্তা ও তদারকি: কোনো বৈধ লাইসেন্স ও অনুমতি ছাড়া এতদিন ধরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কীভাবে একটি হোটেল অবলীলায় ব্যবসা চালিয়ে আসছিল?
প্রশাসনের নজরদারি: এতদিন ধরে কি স্থানীয় পৌরসভা বা খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের নজর এড়িয়ে এই ব্যবসা চলছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি রয়েছে?
খাদ্যের গুণমান: লাইসেন্সহীন হওয়ায় এই হোটেলে পরিবেশন করা খাবারের স্বাস্থ্যকরতা ও গুণমান নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ
অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফুড সেফটি উইক উপলক্ষে এই ধরনের সারপ্রাইজ পরিদর্শন এবং কঠোর নজরদারি অভিযান আগামী দিনেও সোনারপুর ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিয়মিত জারি থাকবে। লাইসেন্স ছাড়া বা খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্যবসা চালানো অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।