ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বেআইনি হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনায় বুধবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। ওই ঘটনায় ডেরেকের পাশাপাশি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশি তলবের পর বুধবার থানায় গিয়ে নিজের বক্তব্য জানান ডেরেক।

গত ২৭ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাড়িতে তৃণমূলের কার্যালয়ে হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা এবং ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) অনুরোধে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। পুরকর্মীরা বেআইনি হোর্ডিং সরাতে গেলে তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় ডেরেক, অভিষেক-সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯১(২), ১৯১(৩), ১৯০, ১২১(১), ৭৪, ৩(৫) এবং ৩৫১(২) ধারায় মামলা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, ডেরেক, অভিষেক, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, এজেইউপি নেতা হুমায়ুন কবীর-সহ তাঁদের অনুগামীরা বেআইনি জমায়েত করে পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেন।
যদিও পুলিশের অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। হোর্ডিং সরানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন দলের নেতারা। ডেরেক সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘মিশন অ্যাবসার্ড। করদাতাদের টাকায় পুলিশ। একটি রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড সরাতে সবাইকে পাঠানো হয়েছে।’’
পুলিশি মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। দলের বক্তব্য, বাহিনীর একাংশ সাদা পোশাকে ছিল, কারও গায়ে ব্যাজ বা পরিচয়পত্রও ছিল না। তা হলে এত বিপুল বাহিনী কেন দলীয় কার্যালয়ে ঢুকল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। তাদের কটাক্ষ, ‘‘এটা কি যুদ্ধ ছিল?’’