ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে বিতর্ক আরও জোরাল হল। এই বিষয়ে প্রকাশ্য বিতর্কের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে জানালেন কংগ্রেস সাংসদ সুরেশ শেটকর। তাঁর বক্তব্য, এই ইস্যুতে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হলে তাতেও অংশ নিতে প্রস্তুত কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট INDIA। আলোচনার জন্য যে কোনও পদ্ধতি মেনে নিতে রাজি তারা।

সুরেশ শেটকর বলেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্য বিতর্ক চান। কংগ্রেস এবং INDIA জোটের নেতারা এই বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই এই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। তাই যে কোনও মঞ্চে বা যে কোনও পদ্ধতিতে বিতর্কে অংশ নিতে তাঁদের আপত্তি নেই।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ আরও জোরাল করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়া X-এ একটি ভোটাভুটির আয়োজন করে তিনি জানতে চান, রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদির মুখোমুখি বিতর্ক দেখতে চান কি না দেশের তরুণ প্রজন্ম।
পাশাপাশি বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতাকে ট্যাগ করে রাহুল অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন প্রধানমন্ত্রীকে এই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি করান। তালিকায় ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি ও শিবরাজ সিং চৌহান এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাহুলের ওই ভোটাভুটিতে দুটি বিকল্প রাখা হয়েছিল। প্রথমটি ছিল, ‘হ্যাঁ মোদিজি, ভয় পাবেন না’ এবং দ্বিতীয়টি, ‘না মোদিজি ভয় পেয়ে গিয়েছেন’। এইভাবেই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতা।
এর আগে গুজরাটের স্ট্যাচু অফ ইউনিটি-তে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিরোধীদের সমালোচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ ছিল, বিরোধীরা নিজেদের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন না করে বিভিন্ন কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। এদিকে, বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীর বিতর্কের চ্যালেঞ্জের জবাব দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে তিনি রাহুলকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, সত্যিই যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান, তাহলে সংসদের ভিতরেই মুখোমুখি বসা উচিত।
হরিয়ানার কর্নালে বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা দূর করো’ পদযাত্রার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যে যদি সত্যতা, যুক্তি এবং যথেষ্ট গুরুত্ব থাকে, তাহলে তিনি সংসদে এসে আলোচনা করুন। শাহের কটাক্ষ, আলোচনায় প্রশ্নের জবাব সামলাতে পারবেন না বলেই রাহুল শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যাবেন।