ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এর প্রভাবে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও তুষারপাত শুরু হয়েছে। উঁচু পার্বত্য এলাকাগুলিতে ব্যাপক তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েছেন কয়েকশো দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পর্বতারোহী। বাধ্য হয়ে উঁচু পাহাড়ের হোটেল ও লজগুলিতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁদের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পাহাড়ের উঁচু এলাকায় ভারী তুষারপাত এবং নিচু এলাকায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে যাওয়ায় ট্রেকিংয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বেস ক্যাম্পের দিকে যাওয়া এবং সেখান থেকে ফেরার পথে আটকে পড়েছেন বহু পর্যটক। ট্রেকিংয়ের রাস্তার ধারে থাকা হোটেল ও বসতিগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই হোটেলগুলির অধিকাংশ ঘর ভর্তি হয়ে গিয়েছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা ট্রেকিং রুটে কয়েকশো দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকে পড়েছেন। ওই এলাকায় হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা বেড়েছে এবং উঁচু পাহাড়ে তুষারপাত হচ্ছে।
কাঞ্চনজঙ্ঘার উত্তর ও দক্ষিণ বেস ক্যাম্পের পথে থাকা বিভিন্ন বসতিতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। উত্তর দিকের ইতালিটার, লামাটার, আমজিলেসা, থাঙ্গিম, গিয়াবলা, ফালে, ঘুনসা, খামবাচেন ও লোনাক এলাকায় বহু পর্যটক আটকে রয়েছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ দিকের ইয়ামফুদিন, নয়া ঝোরেনি, তোরংডেন, সেরাম ও রামজে এলাকাতেও পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে।এদিকে, লুম্বাসুম্বা পাস হয়ে মাকালু বেস ক্যাম্পের দিকে যাওয়া একদল বিদেশি পর্যটক ওলাংচুংগোলায় আটকে পড়েছেন। আধিকারিকদের মতে, ওই এলাকায় থাকা প্রায় অর্ধেক পর্যটক লুম্বাসুম্বা রুট ধরে মাকালু বেস ক্যাম্পে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওলাংচুংগোলা হয়ে সিংজে যাওয়ার পথে আটকে পড়েছেন দেশীয় পর্যটকরাও।
সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর কর্মী এবং স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসের তরফে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলার মুখ্য আধিকারিক উমেশ কুমার দাহাল জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত জেলায় কোনও বড় বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা অঞ্চলের বিভিন্ন বসতি ও হোটেলে প্রায় ২৫০ জন দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই ওলাংচুংগোলা, ঘুনসা ও ইয়ামফুদিন এলাকায় রয়েছেন।
প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ভালোভাবে খতিয়ে দেখার পরেই ট্রেকিং শুরু করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দাহাল। অন্যদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেও রাতভর বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ে ঘেরা উপত্যকার আকাশ অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে। ধুলো ও দূষণের পরিমাণ কমলেও বৃষ্টির জেরে এখনও মেঘে ঢাকা রয়েছে রাজধানীর আকাশ।