বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল বৃহস্পতিবার বিকেলে। এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে অভিযোগ, ঘটনাস্থলে ঢোকার মুখেই তাঁকে আটকে দেয় পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি এবং তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

পুলিশি বাধার পরেও শুভেন্দু অধিকারী নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শোকাহত পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, “যে কাজ মুখ্যমন্ত্রীর করা উচিত ছিল, সেই কাজ এখন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাই করছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এত বড় দুর্ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর নিজে ঘটনাস্থলে আসা উচিত ছিল। কিন্তু তার বদলে অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম এবং সুজিত বসুর মতো মন্ত্রীদের পাঠানো হয়েছে।” বিরোধী দলনেতার দাবি, ” এতে বোঝা যায় সরকার ঘটনাটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।”
সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি গোডাউনটি নিয়ে। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ” ওই গোডাউনের ঘরভাড়ার টাকা নাকি পুলিশের এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের পকেটে যেত। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ দেননি, তবুও তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
” ঘটনার সম্পূর্ণ দায় রাজ্য সরকারকে নিতে হবে” বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, ”পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।”
উল্লেখ্য, আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ডে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আহত হওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। ঘটনার তদন্ত চলছে প্রশাসনের তরফে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে ছুটে গিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক বিষয় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। রাজ্যপাল বলেন, ” আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আইন রক্ষক বাহিনী নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। নজরদারিও ছিল না। অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। আমি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। এটা ক্রমাগত হতেই থাকবে সেটা বরদাস্ত করা যায় না। অনেক জীবন অকালে ঝরে গিয়েছে।কোনো অংশীদার এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। শহরে এবং রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। আমি ফ্যাক্ট ফাইন্ড করতে এসেছি।”