স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : বিজেপি সরকার ক্ষমতায়। রাজ্যে এখন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।মহিলাদের মনে একটাই প্রশ্ন বিজেপি সরকার তো ক্ষমতায় কিন্ত অন্নপূর্ণ ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা মিলবে কবে? কবে টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে? এই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে। কীভাবে হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে নাম নথিভুক্তকরণ? কোথায় কার কাছেই বা যাবেন নাম নথিভুক্ত করতে? নাকি সরাসরি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরাই পাবেন বিজেপি সরকারের অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের টাকা? এইরকম একাধিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত মহিলারা। আর এই সুযোগে সোশ্যাল মাধ্যমে দুষ্টচক্রের রমরমা। অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে নানা জল্পনা, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাই সাবধান। কোনও ফাঁদে পা দেবেন না।

তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীরভাণ্ডার এক জনপ্রিয় প্রকল্প। এই প্রকল্পে মাধ্যমে পাওয়া টাকা মহিলাদের ভরসার জায়গা হয়ে হয়ে উঠেছিল। কিন্তু বাংলায় পরিবর্তনের সরকার। বিজেপি নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতায় এলে মহিলারা লক্ষ্মীরভান্ডারে ১৫০০ হাজার টাকার বদলে তাঁদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মিলবে ৩০০০ টাকা। ক্ষমতায় আসার পর মে মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা মিলবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বয়ং অমিত শাহ। মে মাসের ৯ তারিখ হয়ে গেল কিন্তু এখনও পরিস্কার ভাবে জানা যাচ্ছে না কবে মিলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা। সূত্রের খবর এবার নির্বাচনে মহিলা ভোটের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ! তুলনায় পুরুষদের ভোটের হার শতকরা ৯১ ভাগ। অর্থাৎ, পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের ভোটদানের হার ২ শতাংশের মতো বেশি। অনেকেই বলছেন বিজেপি ক্ষমতায় আসার পিছনে ঘরের লক্ষ্মীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। কিন্ত ঘরের লক্ষ্মীদের একটাই প্রশ্ন অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা মিলবে কবে। কারণ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে ৩০০০ হাজার টাকা অনেকটাই তাঁদের আত্মশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তাই টাকা পাওয়ায় অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ ঘরের মহিলারা।
আবার যদিও এর বিরূপ মতামতও পোষণ করেছেন অনেকেই। ভাতা নয় শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্যের মান উন্নত করতে হবে। তবেই হাল ফিরবে রাজ্যের মানুষের। এমনটাও বলতে শোনা গেল অনেক মহিলাকে।
এবার আসি মূল বিষয়ে। বিজেপি সরকার যখন ক্ষমতায় তখন অবশ্যই তাঁদের প্রতিশ্রুতি মতো মিলবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা। কিন্তু মূল প্রশ্ন হল লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো বাড়ির সকল মহিলাই পাবেন এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা। নাকি নিয়মের ফাঁদে অনেকেই বাদ পড়বেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা থেকে। সূত্রের খবর ৯ মে মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর এই প্রকল্প সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। যদিও জানা যাচ্ছে এই প্রকল্পের ফলে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলারা এই সুবিধা পাবেন। আগের মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই মিলবে টাকা। অফলাইন ও অনলাইনে আবেদন করা যেতে পারে বলে সূত্র মাধ্যমে মিলছে খবর। ২৫ বছরের উর্ধ্বে মহিলারা পাবেন এই প্রকল্পের সুবিধা। তবে আগের মতোই সরকারি চাকুরিজীবীরা এই প্রকল্পের আওতায় নন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি। তাই সঠিক সরকারি পোর্টাল বা ক্যাম্প ছাড়া অন্য কোথাও ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাঙ্ক ডিটেইলস দেওয়ার আগে সতর্ক হন । সরকারি ঘোষণার পরেই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার সাথে এই সুবিধা প্রদান করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।