তেলঙ্গানার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র সভাপতি এন রামচন্দর রাও বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। জাতপাতের বৈষম্য এবং মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে শাসকদলকে নিশানা করেছিলেন খাড়্গে। তার পাল্টা জবাবে রাও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে জাতপাত, সম্প্রদায় ও ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল
অস্পৃশ্যতা ও জাতপাতের বৈষম্যের কারণে হিন্দুধর্মের অস্তিত্ব বিপন্ন বলে মন্তব্য করেছিলেন খাড়্গে। তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রাও অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে দেশ শাসন করেও ভারতে জাতপাতের সমস্যা দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস। বরং এই সমস্যার জন্য কংগ্রেসই দায়ী বলে দাবি করেন তিনি।
এএনআই-কে রাও বলেন, “বারবার জাতপাতের সমস্যা দূর না হওয়ার জন্য বিজেপি সরকারকে দায়ী করছেন তিনি। আসলে দেশের জাতপাতের সমস্যার জন্য দায়ী কংগ্রেস দলই।” রাও আরও অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতারা বারবার রাজনৈতিক স্বার্থে জাতপাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) জাতপাতের ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না।
তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের নেতারা যখনই কথা বলেন, তখনই জাতপাতের প্রসঙ্গ তোলেন। আসলে বিজেপি ও আরএসএসই একমাত্র সংগঠন, যারা জাতপাতের ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। আমাদের সমাজকে জাতপাতমুক্ত হওয়া উচিত। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে কংগ্রেস জাতপাত, সম্প্রদায় ও ধর্মের নামে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছে।” খাড়্গের মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করে বিজেপি নেতা অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের শাসনকালেও জাতপাতের বৈষম্য বজায় ছিল। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকারের আমলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
সংসদের আসন পুনর্বিন্যাসের (ডিলিমিটেশন) জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার যে দাবি খাড়্গে তুলেছেন, সেই প্রসঙ্গেও কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন রাও। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেস নিজেই মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করতে পারেনি। রাও বলেন, “রাজীব গান্ধীর সময়েই কংগ্রেস সরকার মহিলাদের সংরক্ষণ বিল আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা তা করতে পারেনি। প্রস্তাব পাশ করলেও কোনও পদক্ষেপ করেনি। বরং তাদের সহযোগী দলগুলি মহিলাদের সংরক্ষণ বিল ছিঁড়ে ফেলে এবং তার বিরোধিতা করে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করে রাও দাবি করেন, তিনিই মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিলকে আইনি বাস্তবতা দিয়েছেন। জনসংখ্যা ও নির্বাচনী কেন্দ্রের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সংসদে আসনসংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও যুক্তি দেন তিনি। ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গে বিজেপির অবস্থান ব্যাখ্যা করে রাও বলেন, সংসদে আসনসংখ্যা বাড়ানো জরুরি। তাঁর দাবি, আসনসংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব এমন একটি সূত্র দেবে, যাতে কোনও অঞ্চল বঞ্চিত হবে না।
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির উপর ডিলিমিটেশনের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কংগ্রেস বিভ্রান্তিকর প্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাও বলেন, “এখন তারা বলছে, বর্তমান আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার বিরোধী নয় তারা। আসলে সংরক্ষণ কার্যকর করা আটকাতেই কংগ্রেস এই অজুহাত খুঁজছে।” তাঁর অভিযোগ, মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা ঠেকাতে বিরোধী দল নানা কারণ তুলে ধরছে।
এর আগে খাড়্গে যুক্তি দিয়েছিলেন, ডিলিমিটেশনের জন্য অপেক্ষা না করেই সংসদের বর্তমান আসনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা সম্ভব। অবিলম্বে এই সংরক্ষণ কার্যকর করতে সরকারের বাধা কোথায়, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। জাতপাতের বৈষম্য, মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করা এবং নির্বাচনী কেন্দ্রের প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাসকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে এই বাক্যুদ্ধ সামনে এল।