পরিকল্পনা ছিল শুক্রবার। এক দিন পিছিয়ে শনিবার আয়োজন করা হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের দিল্লির রাজাজি মার্গের বাসভবনে বসে ইন্ডি জোটের এই বিশেষ অধিবেশন। যদিও কর্মসূচিকে মক পার্লামেন্ট বলতে নারাজ বিরোধীরা। তার বদলে নাম দেওয়া হয়েছে ‘জন মহাভিযোগ’। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটাধিকার হরণের অভিযোগকে জনতার দরবারে পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন বলে দাবি বিরোধী শিবিরের।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ শুরু হয় অধিবেশন। স্পিকারের আসনে ছিলেন লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার মীরা কুমার। উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, খাড়্গে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, এম এ বেবি, বৃন্দা কারাট-সহ বিরোধী জোটের একাধিক নেতা। তৃণমূলের তরফে হাজির ছিলেন সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ।
অধিবেশনের শুরুতে মীরা কুমার বলেন, ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল শক্তি ভোটপ্রক্রিয়া। এক জন ভোটারকেও যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়, তা গণতন্ত্রের মৌলিক ভাবনার পরিপন্থী। এর পর ইন্দিরা গান্ধী ও সর্দার বল্লভভাই পটেলকে স্মরণ করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করেন খাড়গে।
প্রস্তাবে মোট ছ’টি অভিযোগ আনা হয়েছে। ভোটচুরির ষড়যন্ত্র, ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া, সংসদের অনুমোদন ছাড়াই ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন, ইসিআইনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপি, অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের পরামর্শ উপেক্ষা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। খাড়গের দাবি, মোদী-শাহের নির্দেশে ভোটচুরির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর।
কংগ্রেসের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তবে বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীর অভিযোগ, রাহুল গান্ধীকে নতুন করে রাজনৈতিক মঞ্চে তুলে ধরতেই এই নাটকের আয়োজন। প্রাক্তন স্পিকার ও সাংসদদের এ ভাবে মক পার্লামেন্টে অংশগ্রহণকেও সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি অসম্মান বলে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির।
কংগ্রেসের ভোটচুরির অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকেই নিশানা করলেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই পটেলের জন্মবার্ষিকীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘ভারতে যদি কখনও ভোটচুরি হয়ে থাকে, তা করেছিলেন নেহরু। কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতারা ব্যালটের মাধ্যমে সর্দার পটেলকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভোট চুরি করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন নেহরু। তিনি ছিলেন অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।’’