মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে মঙ্গলবার সকালে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হল। আদালত চত্বর ঘিরে রাখা হয় কড়া নিরাপত্তায়। কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

সোমবার উত্তরবঙ্গের পানিট্যাঙ্কি বাজার এলাকা থেকে জাহাঙ্গিরকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। দার্জিলিং জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে তাঁকে পাকড়াও করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ফলতা থানার একাধিক মামলায় তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। সেই সূত্রেই তাঁর খোঁজ চলছিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ খড়িবাড়ি থানার অধীন পানিট্যাঙ্কি বাজার থেকে তাঁকে আটক করা হয়। ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় তাঁর উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। গ্রেফতারের পর তাঁকে দক্ষিণবঙ্গে নিয়ে আসা হয় এবং মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়।
গত মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন জাহাঙ্গির। তবে পুনর্নির্বাচনের আগে আচমকাই তিনি ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে কটাক্ষ করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। অন্যদিকে বিজেপিও তাঁকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেছিল, তিনি নাকি ‘মাঠ ছেড়ে পালিয়েছেন’।
পরবর্তীকালে ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। সিপিএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মিকে ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে হারান তিনি। ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গির মাত্র ৭,৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থান অধিকার করেছে।
জাহাঙ্গিরের গ্রেফতারি ঘিরে একাধিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও উঠে এসেছে। রাজ্যের নারী ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘পুষ্পা হোক বা অন্য কেউ, বাংলার মানুষকে যারা অত্যাচার করেছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না।’’
অন্যদিকে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য গ্রেফতারিকে স্বাগত জানালেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা জরুরি ছিল। কিন্তু এত দিন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব, অথচ তা করতে দীর্ঘ সময় লেগে গেল।’’
জাহাঙ্গিরকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সূত্র খতিয়ে দেখবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে বলে খবর।