New Delhi, Jun 09 (ANI): TMC MP Kalyan Banerjee speaks during a press conference, in New Delhi on Tuesday. (ANI Photo/Sumit)
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : কয়েক দিন আগেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘নয় অভিষেক নয়তো আমি’, যেকোনও একজনকে বেছে নিতে হবে বলে চরম বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেই এ বার শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। তৃণমূলের অন্দরে মতবিরোধ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জল্পনার মাঝেই শনিবার শ্রীরামপুরের সাংসদ জানালেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘‘ছেলের মতো’’ এবং সন্তানের ভুল ক্ষমা করাই বাবার কাজ।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কল্যাণ বলেন, ‘‘অভিষেক আমার ছেলের মতো। ছেলের সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়াই বাবার দায়িত্ব।’’ তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন মেটানোরই ইঙ্গিত দিলেন কল্যাণ।
তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রশ্নে সুর নরম করলেও রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। কল্যাণের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বিপদের মুখে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের উপর প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এ দিন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের এনডিএ-র প্রতি সমর্থন জানানোর সম্ভাবনা নিয়েও মুখ খোলেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘ওঁরা যা খুশি করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত বিজেপির আশ্রয়েই থাকতে হবে। উন্নয়নের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু যারা নিজেদের কেন্দ্রেই যেতে পারেন না, তাঁরা উন্নয়ন করবেন কী ভাবে?’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিজেপি কখনওই ওই সাংসদদের পুরোপুরি গ্রহণ করবে না।
এর পাশাপাশি জল্পনায় জল ঢেলে কল্যাণ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসে মিশে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা কংগ্রেসে মিশছি না।’’
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই শনিবার ভোরে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে তল্লাশি চালায় সিআইডি। তৃণমূলের দাবি, তল্লাশিতে কোনও প্রমাণ বা আপত্তিকর নথি উদ্ধার হয়নি। দলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের অভিযোগ, এটি বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানোর রাজনৈতিক কৌশল।
অন্য দিকে, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে আন্দোলনের সময় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে তদন্ত, দলীয় দ্বন্দ্ব, বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতা এবং বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ঘিরে তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি।