সংসদের বাদল অধিবেশন ঘিরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত। তার মধ্যেই বুধবার সকালে নতুন রাজ্যসভা সাংসদদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ-র ৩০-এর বেশি নবনির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে দিল্লির রাজনীতি নিয়ে তাঁদের সতর্কও করলেন তিনি। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘দিল্লি বিপজ্জনক জায়গা।’’

নতুন সাংসদদের উদ্দেশে মোদী নাকি বলেছেন, লুটিয়েনস্ জ়োনে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে পড়া যাবে না। কার সঙ্গে দেখা করছেন, কোথায় দেখা করছেন— সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ষড়যন্ত্রের জাল থেকে সাবধান। কার সঙ্গে এবং কোথায় দেখা করছেন, খেয়াল রাখুন।’’
জুনের নির্বাচনের পরে এই অধিবেশনেই প্রথম বার রাজ্যসভায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন-সহ বেশ কয়েক জন সাংসদ। তাঁদের সংসদীয় রাজনীতির খুঁটিনাটি বোঝাতে ব্যক্তিগত আচরণ থেকে বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক— নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন মোদী।
সূত্রের খবর, সাংসদদের লেটারহেড যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলার সময় রূঢ় আচরণ না করার পরামর্শও দিয়েছেন। শুধু নিজের দলের সাংসদ নয়, বিরোধী দলের সাংসদদের কাছ থেকেও শেখার কথা বলেছেন তিনি।
নতুন সাংসদদের কৌতূহলের কেন্দ্রে ছিল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপনও। নিজের ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে মোদী জানিয়েছেন, বিছানায় যাওয়ার আট সেকেন্ডের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। দিনে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘুমোন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘বর্তমানে বাঁচা’র গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে মোদী বলেন, যে মুহূর্তে তিনি থাকেন, সেই মুহূর্তেই সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন। এ দিনের বৈঠকে আপ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অশোক মিত্তলের প্রশ্নের উত্তরে এই পরামর্শ দেন তিনি।
বিদেশ সফরে জেট ল্যাগ কী ভাবে সামলান, সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছেন মোদী। তাঁর কৌশল, বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যে দেশে যাচ্ছেন, সেই দেশের সময় অনুযায়ী হাতঘড়ি বদলে নেন। এতে জেট ল্যাগের সমস্যা হয় না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

নতুন সাংসদদের সংসদে যত বেশি সম্ভব সময় দেওয়ার পাশাপাশি ১০০ শতাংশ উপস্থিতির লক্ষ্য রাখার পরামর্শও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ দিকে, গত অধিবেশন থেকে এ বার পর্যন্ত বিভিন্ন বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ দলবদল করে এনডিএ-তে এসেছেন। আপের রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে সাত সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তৃণমূলের মনোনীত তিন রাজ্যসভা সাংসদ—সুস্মিতা দেব, সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইক—পদত্যাগ করে এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। নতুন সাংসদদের সঙ্গে মোদীর এই বৈঠক তাই সংসদে বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।