মাম্পি রায়, সাংবাদিক : নববর্ষের সকালে রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাতেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হলেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে নেত্রীর বার্তা, ‘অত্যাচার ও জুলুমের’ বিরুদ্ধে ভোটের মাধ্যমে জবাব দিতে হবে রাজ্যবাসীকে। তাঁর বক্তব্য, গণতন্ত্রের উৎসব হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েই এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত।

ভিডিয়োবার্তার শুরুতেই রাজ্যবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, এটি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও গরিমার প্রতীক। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রদেশেও এই সময় বিভিন্ন নববর্ষ উদযাপন করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রীতি ও সংহতির বার্তা দিয়ে তাঁর আবেদন, “শান্তি-সম্প্রীতি-সংস্কৃতির পথেই আমরা নতুন ভোরের দিকে এগিয়ে যাই।” বাংলাকে তিনি সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবেও ব্যাখ্যা করেন।
এরপরই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেন, তাঁর সরকার ইতিমধ্যেই ১০৫টি সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে, যা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি একযোগে বাংলার প্রতি বঞ্চনা করছে এবং প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করছে।
বিজেপিকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন’ মন্তব্যও করেন। তাঁর অভিযোগ, দিল্লির শাসকগোষ্ঠী ভোট প্রভাবিত করতে নানা কৌশল নিচ্ছে এবং রাজ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই অত্যাচারের বদলা নিন, দয়া করে ভোট দিন।”
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে। এই বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন এবং প্রায় ৩২ লক্ষ নাম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান। বাকি নামগুলিও ভবিষ্যতে যুক্ত হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
সবশেষে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “দাঙ্গা নয়, অত্যাচার নয়, রক্ত নয়।” তাঁর মতে, নির্বাচনই গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব এবং এই উৎসবকে সম্মান জানিয়ে সকলের ভোটদান করা উচিত। রাজ্যের ২৯৪টি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
মঙ্গলবার দিনভর একের পর এক সভা করার পর বর্ষবরণে কালীঘাটে মা কালীর কাছে রাজ্যবাসীর মঙ্গলকামনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নিজে হাতে আরতিও করেন। কালীঘাট মন্দির থেকে পুজো দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে তিনি জানান, ‘‘বাংলার জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করেছি।’’