মাম্পি রায়, সাংবাদিক : যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইজরায়েলের সংঘাত ঘিরে এমনিতেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে পশ্চিম এশিয়া। এরইমধ্যে নতুন সংকট হরমুজ প্রণালীতে। খবর মিলেছে, ইরান নিজেও হরমুজ প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে পুরোপুরি খুলতে পারছে না। নিউ ইয়র্ক টাইমস মার্কিন আধিকারিক সূত্রে নিউ ইয়র্ক টাইমস খবর পেয়েছে, ইরান নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং করিডোরে সামুদ্রিক মাইনস লাগিয়েছিল, তা তারা নিজেরাই খুঁজে পাচ্ছে না। ওই মাইন্স দ্রুত সরিয়ে ফেলার উপায়ও ইরানের হাতে নেই। এর ফলে সমুদ্রের সুরক্ষা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে চূড়ান্ত দুশ্চিন্তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আরও দাবি করা হয়েছে, গত মাসে Islamic Revolutionary Guard Corps-এর তত্ত্বাবধানে ছোট নৌকা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা হয়। সেই সময়ে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজায়েলের যৌথ বিমান হামলার প্রেক্ষিতে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার অভিযোগও উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে।
কিন্তু সমস্যা হল, এই মাইনগুলির অনেকগুলির অবস্থান হয় নথিভুক্ত করা হয়নি, অথবা এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে সেগুলি স্রোতের টানে সরে যেতে পারে। ফলে এখন সেগুলি চিহ্নিত করে নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, “অগোছালোভাবে” মাইন পাতা হয়েছিল, যার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে ইরানকেই।
বিশ্বের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ তেল পরিবহণ হয় এই প্রণালী দিয়ে। ভারতের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব আরও বেশি—দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি এই পথেই আসে। ফলে পরিস্থিতির অবনতি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে।
এদিকে যুদ্ধবিরতির আগে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump). তিনি দ্রুত হরমুজ খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানকে সতর্ক করেন। সেই চাপেই ইরান প্রণালী খুলতে সম্মত হলেও, বাস্তবে তা কার্যকর করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে।
ইতিমধ্যে ইরান বিকল্প নৌপথ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে। রিভলিউশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মূল পথের মাইনের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজগুলিকে নির্দিষ্ট বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি তাদের।
এই পরিস্থিতির জেরে পাকিস্তান এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে রফা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা আরও পিছিয়ে যাবে। আশা করা হচ্ছে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হবে, তাতে এই ইস্যু তুলবে ইসলামাবাদ। সেই বৈঠকে আমেরিকার তরফে থাকছেন জেডি ভান্স এবং ইরানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন মহম্মদ বাঘের গালিবাফ।
নতুন সমস্যার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ তেলপথে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। হরমুজে অচলাবস্থা না কাটলে আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসা কঠিন হতে পারে বলে মত কূটনৈতিক মহলের।