মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে অবশেষে প্রশাসনিক ত্রুটির কথা স্বীকার করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। কিন্তু একইসঙ্গে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র প্রধানের বক্তব্যে নতুন করে জোরালো হল ধোঁয়াশা। প্রশ্ন উঠছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কি সত্যিই এনটিএ-র ভিতরকার কেউ জড়িত নন? না কি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে?

সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের পিছনে ‘সংগঠিত চক্র’ এবং ‘শিক্ষা মাফিয়া’ সক্রিয় ছিল। তিনি স্বীকার করেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অনুসরণ করা সত্ত্বেও কমান্ড চেনে ত্রুটি ছিল। আমরা তা স্বীকার করছি এবং ব্যবস্থা উন্নত করার দায়িত্ব নিচ্ছি।” একই সঙ্গে তিনি জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে।
এই মন্তব্যের পরেই গ্রেফতার করা হয়েছে পুণের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পিভি কুলকর্নিকে, যিনি এনটিএ-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। সিবিআই সূত্রে খবর, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ যোগসূত্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ‘সর্ষের মধ্যেই ভূত’— এমন জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
তবে বিতর্কের মাঝেই এনটিএ-র মহাপরিচালক দাবি করেছেন, প্রশ্নপত্র সংস্থার ভিতর থেকে ফাঁস হয়নি। তাঁর বক্তব্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট কড়া ছিল এবং বাইরে থেকেই প্রশ্নপত্র পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য এবং এনটিএ-র শীর্ষ কর্তার মন্তব্যে স্পষ্ট ফারাক থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এরই মধ্যে নতুন করে আগামী ৩ জুন নিট পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে এনটিএ। কিন্তু বারবার পরীক্ষা নেওয়া আদৌ কোনও স্থায়ী সমাধান কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চিকিৎসাবিদ্যায় প্রবেশের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারংবার বসতে হওয়াকে মানসিক ও শারীরিক হেনস্থা বলেই মনে করছেন বহু পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক।
প্রথম দফার পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর চরম হতাশা থেকে আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ড এখন শুধু প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। তা দেশের পরীক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।