
মাম্পি রায়, সাংবাদিক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং( Arjun Singh)। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার মায়াপল্লির একটি বুথে ভোট চলাকালীন তৃণমূলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
অর্জুন সিংয়ের দাবি, ৮২-৮৩ নম্বর বুথের বাইরে একটি ‘ডামি’ বা ভুয়ো ইভিএম রাখা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই যন্ত্র ব্যবহার করে ভোটারদের নির্দিষ্ট বোতাম টিপতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল। সংবাদমাধ্যমকে অর্জুন বলেন, “আমরা খবর পাই যে বুথের বাইরে একটি ভুয়ো ইভিএম রাখা হয়েছে এবং ভোটারদের শেখানো হচ্ছে কোন বোতাম টিপতে হবে।” যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। রাজ্যে প্রধান লড়াই মূলত তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে।
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট ভোটদানের হার ছিল ১৮.৩৯ শতাংশ। জেলাভিত্তিক হিসাবে এগিয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান—সেখানে ভোট পড়েছে ২০.৮৬ শতাংশ। তার পরেই রয়েছে হুগলি, যেখানে ভোটদানের হার ২০.১৬ শতাংশ। নদিয়ায় ১৮.৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় সেই হার ১৭.৮১ শতাংশ।
শহর কলকাতার দুই কেন্দ্রে ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম। কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে ১৭.২৮ শতাংশ এবং কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্রে ১৬.৮১ শতাংশ ভোট পড়েছে সকাল ৯টা পর্যন্ত। হাওড়ায় ভোট পড়েছে ১৭.৭৬ শতাংশ।
এই দফায় মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যা মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রায় ৩.২১ কোটি ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১.৬৪ কোটির বেশি, মহিলা ভোটার প্রায় ১.৫৭ কোটি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৭৯২ জন।
মোট ১,৪৪৮ জন প্রার্থী এই দফায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ২২০ জন মহিলা। রাজ্য জুড়ে ৪১,০০১টি ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮,০০০-এরও বেশি কেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে মহিলা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোট হওয়ায় এই দফাকে রাজনৈতিক মহলে ‘লিটমাস টেস্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভবানীপুর, টালিগঞ্জ-সহ একাধিক ‘হাই-প্রোফাইল’ কেন্দ্রে নজর রয়েছে সকলের। ভোট মিটলে এই অভিযোগ-প্রত্যাঘাত কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।