নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ‘ফর্ম ৬’-এ অতিরিক্ত তথ্য যোগ করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এ বার সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-কে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর প্রশ্ন, অনলাইন ফর্মে এই পরিবর্তন করার নির্দেশ কমিশনের কোন আধিকারিক দিয়েছিলেন? আর TCS-এর কোন আধিকারিক সেই পরিবর্তনে সই করেছিলেন?

বৃহস্পতিবার এক্স-এ রাহুল অভিযোগ করেন, ‘ফর্ম ৬’-এ বেআইনি ভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, TCS-এর উপর কোনও রাজনৈতিক চাপ ছিল কি না। উল্লেখ্য, কমিশনের ‘ECINET’ পোর্টালের ডিজিটাল পরিকাঠামো ও পরিচালনার সঙ্গে TCS যুক্ত।
বিতর্কের সূত্রপাত অনলাইন ‘ফর্ম ৬’-এর সঙ্গে অতিরিক্ত একটি ঘোষণাপত্র বা ‘অ্যানেক্সার-ডি’ যোগ করা নিয়ে। সেখানে আবেদনকারীর নিজের, বাবা-মা কিংবা ঠাকুরদা -ঠাকুমার নাম আগের কোনও SIR-পরবর্তী ভোটার তালিকায় ছিল কি না, সেই তথ্য চাওয়া হচ্ছিল।
এই সংযোজন নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ১৯৬০ সালের ‘রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস’-এ নির্ধারিত ফর্মে এমন পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তবে কমিশনের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, মূল ‘ফর্ম ৬’-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। SIR-এর সময় অতিরিক্ত তথ্যের জন্য আলাদা ‘অ্যানেক্সার-ডি’ যোগ করা হয়েছিল। কমিশনের দাবি, SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের অনুমোদনেই হয়েছিল।
এর মধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর SIR শেষ হয়ে যাওয়া রাজ্যগুলিতে অনলাইন ‘ফর্ম ৬’ থেকে ওই অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। তবে যেখানে SIR এখনও চলছে, সেখানে তা বহাল রয়েছে।
এই বিতর্ককে হাতিয়ার করে বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, ২ থেকে ৮ অক্টোবর দেশজুড়ে ‘সেভ ডেমোক্রেসি মার্চ’ কর্মসূচি হবে। ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদেরা কমিশনে পদযাত্রা করবেন বলেও জানানো হয়েছে।