রামমন্দিরের অনুদানের টাকা নয়ছয় এবং নির্মাণকাজে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে এ বার সরাসরি কেন্দ্র ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারকে নিশানা করল কংগ্রেস। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর প্রশ্ন, ২০২০ সালেই অডিট সংস্থা অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করার পরেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নীরব?

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জয়রাম দাবি করেছেন, ২০২০ সালের নভেম্বরেই রামমন্দির ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা নিয়ে গুরুতর ত্রুটির কথা জানিয়েছিল একটি বেসরকারি অডিট সংস্থা। তাঁর অভিযোগ, অনুদানের হিসাব রাখার নির্দিষ্ট ব্যবস্থা, লেনদেন যাচাইয়ের একাধিক স্তর, দক্ষ হিসাবরক্ষক এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তায় ঘাটতি ছিল। কর্মীদের পরিচালনার জন্য পৃথক মানবসম্পদ বিভাগও ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার আরও অভিযোগ, অডিট সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রতিটি লেনদেনের জন্য নির্দিষ্ট নিয়মাবলি এবং সোনা-রুপোর মতো মূল্যবান দানের সামগ্রীর যথাযথ নথি রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি। সরকারি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র তদন্তেও গণনাকক্ষ থেকে ১০৫ বার অনুমতি ছাড়া নগদ টাকা সরানোর কথা উঠে এসেছে বলে দাবি জয়রামের। সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কর্মীরা নজরদারিতে বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মন্দির নির্মাণের বরাত নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। দলের দাবি, নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ইঞ্জিনিয়ার দীননাথ বর্মা ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইকে ৪০ শতাংশ কমিশন, ভুয়ো শ্রমিক দেখানো এবং নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়িয়ে বিল তৈরির অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তের বদলে ওই ইঞ্জিনিয়ারকেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এ ছাড়াও বহু মূল্যবান দানের সামগ্রীর জন্য রসিদ দেওয়া হয়নি বলে দাবি কংগ্রেসের। দলের বক্তব্য, কয়েক জন নিম্নপদস্থ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ছয় বছরের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ২০২০ সাল থেকে অনুদানের পূর্ণ হিসাব, অডিট রিপোর্ট, নির্মাণের বরাত এবং ট্রাস্টের শীর্ষকর্তাদের ভূমিকা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছে তারা। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তেই নির্ধারিত হওয়া সম্ভব।