বাংলাদেশকে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন শিল্পের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে চায় ঢাকা। সেই লক্ষ্যেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একাধিক প্রস্তাব দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার টোকিয়োয় দুই রাষ্ট্রপ্রধানের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করাই দুই দেশের লক্ষ্য।

তারেকের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ। ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি) এক লক্ষ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে জাপানের সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগে ৫০০০ কোটি ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক।
প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিক্স এবং ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রকে সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি, বাংলাদেশের ছ’টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে দ্রুতগতির রেলপথে যুক্ত করা এবং দেশ জুড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরিতেও জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যাও উঠে আসে। মায়ানমারে হিংসা বন্ধ করে রাখাইন প্রদেশে শান্তি ফেরানোর জন্য জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন তারেক। তাঁর বক্তব্য, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।
দুই দেশের সহযোগিতাকে বাস্তবায়িত করতে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য তাকাইচিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।