রিয়া হালদার, সাংবাদিক: ব্যস্ত জীবনে নিজেদের যত্নে সময় বের করা অনেকের ক্ষেত্রে বেশ কঠিন। তবে যদি আপনি চান, আপনার ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত থাকুক, তাহলে একটি ধারাবাহিক এবং সহজ রুটিনই আপনার ত্বককে সুন্দর করে তুলতে পারবে। মাথায় রাখবেন সঠিক রুটিন মেনে চললে তবেই মিলবে কাজ। চটজলদি ফিরবে ত্বকের উজ্জ্বলতা। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরানোর টিপস।
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই ত্বকের যত্ন শুরু করা উচিত। যা আপনার ত্বককে সারাদিনের জন্য প্রস্তুত করে দেবে। এর জন্য বেশ কয়েকটি উপায় মেনে চলতে হবে।

১. ক্লিনজিং: ঘুম থেকে উঠে প্রথমে একটি মাইল্ড ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে। মাইল্ড ক্লিনজার অর্থাৎ ফেসওয়াশ যা আমরা সবাই ব্যাবহার করে থাকি এবং যা ত্বকের মধ্যে জমে থাকা ময়লা, ধুলো অতিরিক্ত তেল দূর করে ও এবং মৃত কোষ পরিষ্কার করে। মাইল্ড ক্লিনজার ব্যবহার করলে ত্বকের হাইড্রেশন ঠিক থাকে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক বাধা বজায় থাকে। এবার আপনি আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার বেছে নিন।
২. টোনিং: মুখ পরিষ্কার করার পর একটি ভালো টোনার ব্যবহার করুন। টোনার ত্বকের পি.এইচ. ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং লোমকূপ সঙ্কুচিত করে।
৩. সিরাম: এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি একটি সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। যেমন- ভিটামিন সি সিরাম। যা ত্বকের উজ্জ্বল ভাব বাড়াতে এবং ডার্ক স্পট অর্থাৎ কালো দাগ কমাতে খুবই কার্যকর।
৪. ময়েশ্চারাইজিং: ত্বককে সবসময় আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। আপনি আপনার স্কিনটোন মানে ত্বকের ধরন অনুযায়ী একটি হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যা ত্বককে নরম এবং সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
৫. সানস্ক্রিন: সকালের রুটিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সানস্ক্রিন ব্যবহার করা। বাইরে বেরনোর ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। এটি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। যা ত্বকের অকাল বার্ধক্য এবং পিগমেন্টেশন রোধ করে। এগুলি ছিল সকালের রুটিন।

এবার আসি রাতের রুটিনে।
দিনের শেষে ত্বকের ক্লান্তি দূর করা এবং ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাতের রুটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য কি কি উপায় আপনি অবলম্বন করবেন,
১. ডাবল ক্লিনজিং: যদি আপনি মেকআপ ব্যবহার করেন, তাহলে প্রথমে আপনি নারকেল তেল দিয়ে ভালো করে বেশি মেকআপ। তারপর মেকআপ রিমুভার দিয়ে মেকআপ তুলে ফেলতে হবে। এরপর একটি জল-ভিত্তিক ক্লিনজার দিয়ে মুখ আবার পরিষ্কার করতে হবে। এটাই ডাবল ক্লিনজিং। যা ত্বক থেকে সবরকম ময়লা সম্পূর্ণভাবে দূর করে দেবে।
২. এক্সফোলিয়েশন: সপ্তাহে ১-২ দিন একটি মৃদু এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষের জন্ম নিতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন করবেন না, কারণ এটি ত্বকের ক্ষতিও করতে পারে।
৩. সিরাম/ট্রিটমেন্ট: রাতে রেটিনল বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড এর মতো সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। রেটিনল ত্বকের বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বককে গভীর থেকে আর্দ্রতা দেয়।
৪. ময়েশ্চারাইজিং: রাতে একটি ঘন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। যা ঘুমের সময় ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ত্বককে সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে।
তবে শুধুমাত্র এগুলি নয় আরও কিছু টিপস আপনাদেরকে দিয়ে রাখা ভালো ত্বকের উজ্জ্বলতার ক্ষেত্রে।
জল পান: পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর একটি অন্যতম উপায়। যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়।
স্বাস্থ্যকর খাবার: নিজের খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাক-সবজি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন।
পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমনোর চেষ্টা করতে হবে। এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্ট্রেস কমান: স্ট্রেস ত্বকের অনেক সমস্যার কারণ হতে পারে। যোগা, মেডিটেশন বা অন্যান্য শখের মাধ্যমে স্ট্রেস কমানোর চেষ্টা করুন।
এই রুটিনটি নিয়মিত অনুসরণ করলে যে কারও ত্বকে পরিবর্তন দেখা যাবে। মনে রাখবেন, ধারাবাহিকতাই সুস্থ এবং উজ্জ্বল ত্বকের মূল চাবিকাঠি।