আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বাবু মাস্টারের গড়ে বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের উল্লাস। চলল বিজয় উৎসব । ভাবুন একবার একসময় বাবুমাস্টারের গড়ে চোখ তুলে টুঁ শব্দ করার সাহস ছিল না। সেখানে কিনা উড়ছে গেরুয়া আবীর। হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত ভবানীপুর। যে এলাকায় একসময় ত্রাস ছিলেন বাবু মাস্টার। সেই বাবুমাস্টারের গড়ে গলা উঁচিয়ে শান্তির বার্তা দিলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র। ভাবানীপুর কেন্দ্র এখন মুক্ত। কোথায় গেলেন বাবু মাস্টার। তবে কি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফেরা তাঁর কাল হল।

২৬-এর বিধানসভা ভোটে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্র ছিল লড়াইয়ের ভরকেন্দ্র। যেখানে শুভেন্দু অধিকারী বনাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে তেতে ছিল ভবানীপুরের মাটি। যে মাটি থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারতে হয়েছে ঘরের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রের মতো এ রাজ্যের আরও এক ভবানীপুর হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। হিঙ্গলগঞ্জের বিধানসভা আসনের মধ্যেই পড়ে ভবানীপুর। যেখানে এক সময়কার ত্রাস বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজির কথায় বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেত। আজ সেসব অতীত নেই ৩৪ বছরের বাম শাসন, নেই তৃণমূলের কোন প্রভাবশালী নেতা! আজ শুধু রয়েছে গেরুয়া ঝড়, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সাথে সাথে ভরাডুবি হয়েছে সীমান্তবর্তী সুন্দরবন বিধানসভা হিঙ্গলগঞ্জে। একসময়ের স্কুল শিক্ষক বাবু মাস্টার বাম আমলে দাপুটে নেতা ছিলেন। ২০১১ সালে পালাবদলের পর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং বসিরহাট মহকুমায় শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। তবে ওই বছরই শেষের দিকে তিনি ভুল স্বীকার করে তৃণমূলে ফিরে আসেন। শিক্ষক হলে কী হবে তাঁর বিরুদ্ধে ভুড়ি ভুড়ি অভিযোগ। মিনাখাঁ ও হাসনাবাদ এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ভেড়ি দখল, তোলাবাজি এবং ইটভাটাগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাসন্তী হাইওয়েতে তাঁর গাড়িতে বোমা হামলা ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পুলিশ তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায়। জানা যায়, রাজনীতির ময়দানে নিজের দর বাড়াতেই বাবু মাস্টার ওরফে ফিরোজ কামাল গাজি নিজে ষড়যন্ত্র করে নিজের উপর হামলা করিয়েছিলেন। এই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

কী বর্ণময় চরিত্র ভাবুন। প্রায় সব ঘাটেরই জয় খাওয়া হয়ে গেছে এই নেতার। বিধানসভা ভোটের মাসকয়েকের মধ্যেই ফুলবদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরোজ কামাল গাজি ওরফে বাবু মাস্টার সেইসময় দাবি করেছিলেন বিজেপিতে যাওয়া হঠকারী সিদ্ধান্ত। বিজেপির মতাদর্শের সঙ্গে তাঁর কোনও মিল নেই । কিন্তু তৃণমূলে এসেও কোনও সুবিধা করতে পারলেন না তিনি। ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল। হিঙ্গলগঞ্জে খাটেনি তাঁর ক্যারিশ্মা। তাঁর নিজের এলাকাতেই উড়েছে গেরুয়া আবীর। রেখা পাত্র বিধায়ক হতেই তাঁকে নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। আর তাই বাবু মাস্টারের গড়ে গিয়ে বিজয় উৎসব করে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব যেন বুঝিয়ে দিল বাবু মাস্টারের দিন গেছে। এখন তাঁর ঘরে থাকাই শ্রেয়। রেখা পাত্রও শোনালেন এই ভবানীপুরে একসময় বিজেপির পতাকা লাগাতে গিয়ে পিছিয়ে আসত দলের কর্মীরা।
সন্দেশখালি দিয়ে লাইম লাইটে আসা রেখা পাত্র। বিজেপির ভরসার নাম রেখা এখন সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ সহ বসিরহাটে ভরসার নাম। তাঁকে নিয়ে বিজেপি কর্মী থেকে মহিলাদের মধ্যে উন্মাদনার শেষ নেই। ভবানীপুরের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের উদ্যোগে বিজয় উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সন্দেশখালির বিধায়ক সনৎ সরদার হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক রেখা পাত্র সহ একাধিক বিজেপি নেতৃত্ব। এই বাবু মাস্টার গড়ে মনের আনন্দে বিজয় উৎসব পালন করলেন এবং গেরুয়া আবির ও বিজেপির পতাকা উড়িয়ে যেন বিজেপির নিচুতলার কর্মী থেকে নেতৃত্বরা বুঝিয়ে দিল আপাতত পদ্ম স্মরণেই ভয়মুক্তি।