জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: প্রথম আনক্যাপড ক্রিকেটার হিসেবে বিসিসিআই-র সভাপতি হলেন মিঠুন মানহাস। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের ৩৭-তম সভাপতি হলেন তিনি। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআই-এর তরফে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় প্রবল ভাবে ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। জল্পনার ভাসছিল হরভজন সিংয়ের নামও।

মানহাসের পরিচয় শুধু একজন ক্রিকেটার হিসাবে পরিচিত নয়। তিনি একজন দক্ষ সংগঠকও। ৪৫ বছরের মানহাস একজন দক্ষ প্রশাসক। জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রশাসনিক পদে ছিলেন তিনি। এছাড়াও ২০১৭ সালে মানহাস পঞ্জাব কিংসের সহকারী কোচ হন। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পরামর্শদাতা হিসাবেও কাজ করেছেন মিঠুন। দু’বছর সেই দায়িত্ব তিনি পালন করেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও গুজরাত টাইটান্সের সহকারী কোচের দায়িত্বও সামলেছেন বিসিসিআই-এর নতুন সভাপতি। ইত্যাদি দলে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে মানহাসের। দলীপ ট্রফির জন্য নর্থ জোনের কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন মিঠুন। ফলে ক্রিকেট মাঠ ও প্রশাসনিক পরিসর তাঁকে অন্যদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রেখেছিল।

ভারতের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পেলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত নাম মিঠুন মানহাস। এবং প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে তাঁর সাফল্য অন্যতম প্রশংসনীয়। প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটে মানহাসের অভিষেক হয় ১৯৯৭-৯৮ সালে। তিনি ছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান, অফ-স্পিনার, প্রয়োজনে উইকেটকিপারের দায়িত্বও সামলাতেন। জম্মু-কাশ্মীরের এই প্রাক্তন ক্রিকেটার দিল্লির হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেছেন। ১৭ বছর ধরে তিনি দিল্লির মিডল অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দিল্লি ২০০৭-০৮ মরশুমে রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ১৫৭টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ২৭টি শতরান রয়েছে মিঠুন মানহাসের। ৪৯টি অর্ধশতরানের মালিক তিনি। ক্যারিয়ারে ৯,৭১৪ রান করেছেন। গড় ছিল ৪৫.৮২। পাশাপাশি ৪০টি উইকেটও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দলের হয়ে আইপিএল খেলেছেন তিনি। আইপিএলে তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুনে ওয়ারিয়র্স এবং চেন্নাই সুপার কিংসের মতো জনপ্রিয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
গত রবিবার মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দফতরে সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দেন এই অল রাউন্ডার। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ প্রার্থী না হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হলেন তিনি।