‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’— এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার কলকাতার রাজপথে মিছিল করল বিজেপি। মিছিলে নেতৃত্ব দেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মিছিলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। সেখান থেকেই কংগ্রেস-সহ বিরোধী INDIA জোটকে নিশানা করে একের পর এক আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতারা। বিরোধীদের ‘আরশোলা’ বলেও কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অজয়কুমার পোদ্দার।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোদ্দারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের অগ্রগতি থামাতে বিদেশি শক্তি এবং বিরোধীরা একজোট হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এই আরশোলাদের একটাই উদ্দেশ্য, কী ভাবে ভারতকে থামানো যায়। গত ১২ বছরে মোদী দেশকে যে পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তা তারা সহ্য করতে পারছে না।’’
অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিংহ। তাঁর দাবি, হতাশা থেকেই নানানরকম মন্তব্য করছেন মমতা। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাহুলকে ‘পাপ্পু’ বলা হত, এখনও তিনি তাই রয়েছেন।
বিজেপি বিধায়ক দেবাশিস ধরও বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ডিপ স্টেট’-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, বিরোধীরা সংবিধান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে। দুর্নীতির তদন্ত প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ থাকলে তদন্তের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
বিজেপি মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারও তৃণমূল নেতৃত্বকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ জানেন অতীতে কী ভাবে ভোটে জিতত তৃণমূল। কোনও ‘পিছনের দরজা’ দিয়ে আর ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব হবে না।
উল্লেখ্য, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সভা থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো এবং জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তার পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির এই রাজনৈতিক কর্মসূচি।