কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেণুগোপাল বলেন, দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছেন কীভাবে সরকার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকেও এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বেণুগোপালের কথায়, “আজ দেশের মানুষ নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে তাঁদের সময় শেষ। যে কোনও উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার দিন আর নেই। দেশের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছেন কারা আসলে দোষী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ব্যবহার করে দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।”

রামলীলা ময়দানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সভা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভেরই প্রকাশ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ নিজেদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এমন কোনও চেষ্টা তাঁরা মেনে নেবেন না।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্যের জবাব দেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তাঁর দাবি, কংগ্রেসকে নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এখন ওঁরা স্বপ্নেও কংগ্রেসকে দেখতে শুরু করেছেন। প্রথমে রাতে ঘুম আসতে চায় না, আর যখন ঘুম আসে তখন স্বপ্নেও কংগ্রেস হাজির হয়। এই ভয় দেখতে বেশ ভালোই লাগছে। ওঁদের বলুন, এবার নিজেদের বিদায়ের দিন গুনতে শুরু করুন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিদায়ের সময় এসে গিয়েছে।”
অমিত শাহের মন্তব্যকে রাজনৈতিক অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেন পবন খেরা। রামলীলা ময়দানের বিশাল জনসমাগমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, “গত ৩০ বছর ধরে রামলীলা ময়দানের বহু সভা দেখেছি। কিন্তু এত বড় জনসভা আগে কখনও দেখিনি। সভাটি অত্যন্ত সফল হয়েছে। শুধু রামলীলা ময়দানেই নয়, গোটা দিল্লি জুড়েই মানুষের ভিড় চোখে পড়েছে।” উল্লেখ্য, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের ‘চলো দিল্লি’ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা ও হাজার হাজার সমর্থক যোগ দেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে মিছিল শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানের দিকে এগিয়ে যায়। এর আগে ৩১ অক্টোবর দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ‘ইমপিচমেন্ট’ বা অপসারণের দাবিতে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এই প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ফারুক আবদুল্লা, সিপিআই নেতা ডি রাজা