মৌসুমী সাহা, সাংবাদিক: বিদ্রোহ যার শিরায়, প্রতিশোধ যার রক্তে রঘু ডাকাত আসছে। মুক্তি পেয়েছে রঘু ডাকাত। এই নিয়েই এবার শুরু হল রাজনৈতিক তরজা।

‘ধুমকেতুর’ সাফল্যের পর দেব ফিরে এসেছেন । এবার তিনি আধুনিক কালের বিদ্রোহী থেকে তরবারি হাতে একজন কিংবদন্তি অপরাধীতে পরিণত হয়েছেন। অপেক্ষার অবসানে দেবের বহুল প্রতীক্ষিত ইতিহাসিক অ্যাকশন ড্রামা রঘু ডাকাত বৃহস্পতিবার ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে । ‘রঘু ডাকাত’ মুক্তির সাথে সাথেই বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।মোট চারটি বড় বাজেটের বাংলা ছবি একই সঙ্গে শুক্রবার রিলিজ করলেও, বৃহস্পতিবার রঘু ডাকাত রিলিজ করেছে। ফলে আশা করা যাচ্ছে আগামী দিনে ছবিটি ভালো ব্যবসা করবে।

ধ্রুব ব্যানার্জি পরিচালিত এই ছবিটি ১৯ শতকের বাংলার ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসনের তুঙ্গে ওঠার সময়কার এক বিচিত্র সময়কালের কাহিনী। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রঘু, যার চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন দেব। একজন ভয়ংকর অপরাধী যিনি একজন কিংবদন্তি লোকনায়কে রূপান্তরিত হন। সাম্রাজ্যের দ্বারা নিপীড়িতদের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এই ছবিতে। অনির্বাণ ভট্টাচার্য সোহিনী সরকার ইধিকা, ওম সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করেছেন এই ফিল্মে। বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক নাটকটি অ্যাকশন ,রাজনীতি ,লোককাহিনী এবং আবেগের মিশ্রণে অন্যতম একটি ছবি হয়ে উঠেছে সেখানে সিনেমাটিক ভিসুয়াল গুলি বাংলার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং অশান্ত সময়ের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। দুর্গাপুজোয় ‘রঘু ডাকাত ‘বাংলা জুড়ে বেশ কয়েকটি প্রেক্ষাগৃহে প্রায় হাউসফুল শো দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। প্রথম দিনে ১০ হাজারেরও বেশি টিকিট বুক করেছেন সিনেপ্রেমীরা।
কদিন আগেই বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কুড়ি বছর পূর্তি উদযাপন করলেন অভিনেতা একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ।২ দশকের বেশি সিনেমার যাত্রা উদযাপন করেছেন তিনি। ‘রঘু ডাকাতের ‘অফিশিয়াল ট্রেলার লঞ্চ হিসেবেও কাজ করেছিল এই অনুষ্ঠান। বরাবরই বাংলা সিনেমায় প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন অভিনেতা। যখন বাংলার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহগুলির আলো নিভে যাচ্ছে তখন ‘রঘু ডাকাত’ ঘুরে দাঁড়াবার মতো একটি চলচ্চিত্র শুধু নয়, দেবের নেতৃত্বে ভক্তরা বাংলা সিনেমায় নতুন যুগের সাক্ষী হতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এখানে ইতিহাসের সাথে বীরত্বের মিলন ঘটেছে আর তার প্রতিফলন হবে বক্স অফিসে।
আর এদিকে পুজোর আগে চার চারটে বাংলা ফিল্ম রিলিজ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে তর্ক ও বিতর্ক অভিযোগ আর অনুযোগ। ইতিমধ্যেই পছন্দমত শো না পাওয়ার কথা সোশ্যাল মিডিয়া ক্ষোভ জানিয়েছেন অন্য একটি ছবির কাহিনীকার। এরপর দেবকে নিয়ে সমাজ মাধ্যমে বেশ কদিন আগেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন তৃণমুল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এবং প্রযোজক রানা সরকার। প্রভাবশালী একটি ছবি বাড়তি শো পাচ্ছে একাধিক হলে শুরু থেকেই কিন্তু অন্যান্য ছবিগুলি সেরকমভাবে সুযোগ পাচ্ছে না। শুরুতে সবাই সমান সুযোগ পাওয়া কাম্য। তারপর দর্শকের বিচার দর্শকদের সারা অনুযায়ী বা ব্যবসা অনুযায়ী মালিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন। বাংলা ছবি বেশি করে প্রাইম টাইম-এ শো পাক তা নিয়ে বৈঠক হয়েছিল এবং যা সফল হয়েছিল।সেই বৈঠকের কথা মনে করিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন বিষয়টি নজর দেওয়া দরকার এবং হল মালিকদের নিরপেক্ষতাও দরকার। আর এরপরও যদি এমন চলে তবে এর প্রতিবাদ হবে।

কুণাল ঘোষকে পাল্টা বেশ কিছু প্রশ্ন করেন প্রযোজক, ঠিক কি কারণে তিনি এমন করছেন ? কোনো প্রোডাকশন হাউস কি তার পেছনে রয়েছে? বাংলা সিনেমা নিয়ে কথা বলছেন , ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রির লোক না হয়েও। অবশ্য এর উত্তর কুণাল ঘোষ দেন, তিনি দেবের বিরোধী নন।বাংলা ছবির দর্শক হিসেবে ,একজন প্রাক্তন প্রযোজক পরিচালক হিসেবেও একথা বলছেন।ভালোলাগা থেকে ছবির কথা তুলে ধরেন কুণাল ঘোষ তখন কে থাকে পেছনে ?দেব অবশ্য বলেছেন ,তার বন্ধু হতে যোগ্যতা লাগে শত্রু হতেও যোগ্যতা লাগে।আর তার শত্রু হবার যোগ্যতা এখনও কেউ অর্জন করেনি। আর তিনি জনগণের জন্য সিনেমা বানান কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়,বিশেষত কুণাল ঘোষের জন্য নয়।
কুণাল ঘোষ দেবকে ঠান্ডা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আগের ফিল্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে চলার পরামর্শও দিয়েছেন তৃণমূল নেতা।যা নিয়ে ইতিমধ্যে তরজা তুঙ্গে উঠেছে দুজনের মধ্যে। দেব অবশ্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুণাল ঘোষকে।