ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২২-এর সেপ্টেম্বরে কলকাতায় টাকার পাহাড় দেখে কপালে চোখ উঠেছিল রাজ্যবাসীর। তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিপুল টাকা উদ্ধারের পরই গ্রেফতার করা হয় অর্পিতা এবং দুজনকে। স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তদন্তে নেমে তাদের গ্রেফতার করে ইডি। ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর অবশেষে জামিন পেলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতির শেষ মামলা থেকেও জামিন পেয়ে গেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

শুক্রবার শর্তসাপেক্ষে পার্থের জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে পার্থের জামিনের মামলার শুনানি শেষ হয় গত ১৫ সেপ্টেম্বর। তারপর রায় ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়। অবশেষে শুক্রবার সেই মামলায় রায় ঘোষণা করা হল।

ইডি এবং সিবিআইয়ের সব মামলা থেকে জামিন পেয়ে গেলেও জানা যাচ্ছে পুজোর আগে পার্থের জেলমুক্তি সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার শর্তের জেরে আপাতত জেলের বাইরে বেরোতে পারবেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ১৮ অগস্ট পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন মামলার শুনানিতে সুপ্রিমকোর্ট জানিয়েছিল, জামিনের বন্ড করার আগে চার্জ গঠন করতে হবে নিম্ন আদালতকে। চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জ গঠন করবে নিম্ন আদালত। তার পরে দু’মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি নথিবদ্ধ করতে হবে। তার পরেই পার্থকে জামিন দিতে পারবে নিম্ন আদালত।

এছাড়া পার্থকেও বেশ কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল হাইকোর্ট, যা মেনে তাঁকে চলতে হবে। যেমন-
১. আদালতের অনুমতি ছাড়া এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
২. আপাতত আর কোনও সরকারি পদে থাকতে পারবেন না
৩. কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করতে পারবেন না
৪. পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে
৫. তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তবে বিধায়ক হিসাবে কাজ করতে পারবেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
২০২২ সালে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় পার্থ এবং অর্পিতাকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইডির মামলায় তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত সিবিআইয়ের মামলা থেকেও জামিন পেয়েছেন পার্থ। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগ মামলায় আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালত ৭ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে পার্থের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। এখন শুধুমাত্র প্রাথমিকের মামলা বাকি। এই মামলায় জামিন পেয়ে গেলেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জেলমুক্তি সময়ের অপেক্ষা। তবে পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা।

আগেই জামিন পেয়ে গিয়েছেন। এই খবর মিলতেই আবারও প্রশ্ন উঠে গেল ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে। একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে অভিযোগ তোলে। শিক্ষায় দুর্নীতি, স্বাস্থ্যে দুর্নীতি, রেশনে দুর্নীতি, আবাসে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিজেপি নেতারা। এখন প্রশ্ন হল যদি দুর্নীতি হয়েই থাকে, তাহলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-সিবিআই অভিযুক্তদের যোগ্য শাস্তি দিতে কেন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে ?