ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ভোররাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছিল শহর কলকাতা। কোথাও হাঁটুজল পেরিয়ে মানুষজনকে হাঁটতে দেখা গিয়েছে, কোথাও আবার গাড়ি, বাইকের বেশিরভাগটাই ডুবে গিয়েছে জলের তলায়। জমা জলে দুর্ঘটনাও এড়ানো যায়নি। রাস্তার ধারে বিদ্যুতের খুঁটিতে হাত দিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে শহর কলকাতায়। নেতাজিনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে সাইকেল আরোহীর। এছাড়াও কালিকাপুর, বালিগঞ্জ প্লেস, বেনিয়াপুকুরেও এমন মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। জানা যাচ্ছে উৎসবের মুখে শহর কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় ক্যালকাটা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন বা সিইএসসিকেই দায়ী করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনার দায় সিইএসসিকে নিতেই হবে। এখনই তারা জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাক। এখানে ব্যবসা করছে। আর পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজটা করছে রাজস্থানে! এখানে আধুনিকীকরণের কাজ করছে না। বলতে বলতে আমার মুখ ব্যথা হয়ে গিয়েছে।“

এবার বৃষ্টির জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় সিইএসসির জবাব তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু সিইএসসিই নয়, রাজ্য সরকার, কলকাতা পুরসভার থেকেও রিপোর্ট তলব করল বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নিয়ে কি ভাবছে রাজ্য সরকার? তাও জানাতে হবে ওই রিপোর্টে। এছাড়া নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্টে রিপোর্ট পেশ করতে হবে কলকাতা পুরসভাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে সিইএসসি কি পদক্ষেপ করেছে, হাইকোর্টে জমা করা রিপোর্টে জানাতে হবে CESC-কে। আগামী ৭ নভেম্বর মামলার পরবর্তী পরবর্তী শুনানি। মঙ্গলবারের প্রবল বৃষ্টিতে জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনায় সিইএসসিকে জোর বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের একটি পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সিইএসসির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, মৃতদের পরিবারকে যেন ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফেও স্বজনহারানো পরিবারগুলিকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিইএসসি যদি মৃতদের পরিবারের চাকরির ব্যবস্থা না-করে, তা হলে পরিবারের এক জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই এবার নড়েচড়ে বসল