নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি: টেট উত্তীর্ণ না হলে, বসতে হবে পরীক্ষায়। প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এমনই নির্দেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। শিক্ষকতা থেকে পদোন্নতি সবকিছুতেই টেট বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তৎপর রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে জেলায় জেলায় কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তথ্য চেয়ে পাঠাল পর্ষদ।

২০ হোক বা ২৫। সে যত বছর ধরেই প্রাথমিকে শিক্ষাকতা করুন। টেট পাশ করতে হবে প্রত্যেক প্রাথমিক শিক্ষকদের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে জেলায় জেলায় তথ্য তলব পর্ষদের। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে বিভিন্ন জেলার ডিপিএসসি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে তথ্য তলব করা হল। ১৫ দিনের মধ্যেই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কাছে তথ্য পাঠাতে হবে জেলার ডিপিএসসি-দের। তথ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলায় কত জন শিক্ষককে টেট দিতে হবে? সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মধ্যে কে কবে অবসর নেবেন? কবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন? এই সব কিছুই বিস্তারিত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় দেড় লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষক আছে। সেই শিক্ষকদের মধ্যে যারা টেট দেননি তাঁদের টেট দিতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষকতা থেকে পদোন্নতি সবকিছুতেই টেট বাধ্যতামূলক।
সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ মত, চাকরি চালিয়ে যেতে বাধ্যতামূলক ভাবে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে প্রাথমিকের শিক্ষকদের। শুধু চাকরি বাঁচানো নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও একই নির্দেশ প্রযোজ্য। যে সমস্ত কর্মরত শিক্ষকরা টেট দেননি এমন প্রাথমিক শিক্ষকদের আগামী দু’বছরের মধ্যে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর বক্তব্য, “এমনভাবে বলা হচ্ছে যেন সমস্ত শিক্ষক শিক্ষিকারা টেট পাস করলে এক ধাক্কায় শিক্ষার মানোন্নয়ন হয়ে যাবে। শিক্ষার সংকটমোচন হয়ে যাবে কিন্তু বাস্তব কি তাই?”
চাকরি রক্ষায় টেট পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর পর্ষদের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় একাধিক প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাই। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন,”সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৫বছরের কম যাদের চাকরি আছে তাঁদের বাদে বাকি সব শিক্ষক শিক্ষিকাকে উঃ প্রাথমিক পর্যন্ত,বাধ্যতামূলক টেট পাশ করতে হবে, না হলে চাকরি চলে যাবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি রাজ্য ও সংগঠন ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আপীল করেছে। কিন্তু আমাদের রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রের সরকার হাত গুটিয়ে বসে আছে। এরা কি চাইছে শিক্ষক শিক্ষিকাদের চাকরি চলে যাক!”