সারা ভারতের সাথে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা জানতে ২৬ শে নভেম্বর শুরু হচ্ছে গণনা

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশন বা সর্বভারতীয় বাঘ শুমারি। সারা দেশের সমস্ত জঙ্গলের সঙ্গে সুন্দরবনে বাঘেদের বর্তমান সংখ্যা কত, সে বিষয়েও গণনা করবেন বনকর্মীরা। তবে সাম্প্রতিক অতীতে যে পরিমাণ বাঘ সুন্দরবনে দেখা গিয়েছে তাতে সুন্দরবনে বাঘেদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। গত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের নিজস্ব বাঘ সুমারিতে ব্যবহৃত ক্যামেরার ছবি বিশ্লেষণ করে তেমনটাই দাবি করেছিল বন দফতর। তবে গতবারের তুলনায় এবার সর্বভারতীয় বাঘ শুমারিতে সংখ্যাটা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী বন আধিকারিকরা। সংখ্যার দিক দিয়ে সর্বশেষ সর্বভারতীয় ব্যাঘ্র শুমারিতে সুন্দরবনে বাঘেদের সংখ্যা ছিল ১০১টি।
২০২১-২২ সালে হয়েছিল সর্বশেষ অল ইন্ডিয়া টাইগার এস্টিমেশান। নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর এই এস্টিমেশানের কাজ করে দেশের সমস্ত ব্যাঘ্র প্রকল্প। চার বছর পর ২০২৫-২৬-এ ফের হতে চলেছে এই সর্বভারতীয় ব্যাঘ্র শুমারির কাজ। চলতি বছরের নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়ে যাবে এই কাজ। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প ও ২৪ পরগনা বন বিভাগ এলাকায় ক্যামেরা বসিয়ে ৪৫ দিন ধরে বাঘেদের ছবি তোলা হবে। আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সেই ক্যামেরা জঙ্গল থেকে খুলে নেওয়া হবে। এরপর ক্যামেরায় ওঠা বাঘেদের ছবি বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে সুন্দরবনে বর্তমানে কটি বাঘ রয়েছে, সেই সংখ্যা। সারা দেশের সাথে এক সাথেই সেই সংখ্যা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সরকার।

গভীর জঙ্গলে ইনফ্রা-রে প্রযুক্তি সম্বলিত স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা বসিয়ে চলে বাঘেদের ছবি তোলার কাজ। ছবি ওঠার পর সেই ছবি বিচার বিশ্লেষণ করে সুন্দরবনে বাঘেদের সংখ্যা নির্ধারণ করে বন দফতর। তবে এবার ৩০ দিনের বদলে ৪৫ দিন ধরে জঙ্গলে ক্যামেরা বসিয়ে ছবি তোলা হবে বাঘেদের, জানিয়েছে বন দফতর। পাশাপাশি এবার সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকা ও ২৪ পরগনা বন বিভাগ এলাকায় এক সাথেই ক্যামেরা বসানো হবে। সাতশোর বেশি ক্যামেরা এবার সুন্দরবনের বাঘ গননায় ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে বন দফতর। প্রায় ৩৫০ বনকর্মী এই ক্যামেরা বসানোর কাজ করবে। ইতিমধ্যেই এই সম্পর্কিত তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে বন কর্মীদের।
শেষ সর্বভারতীয় বাঘ শুমারির তুলনায় গত বছর সুন্দরবনে বাঘ গননায় অনেক বেশি সংখ্যায় বাঘের হদিস মিলেছিল জঙ্গলে। এবার সেই সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী বন দফতর। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর জোন্স জাস্টিন বলেন, “ গত বছর বাঘ গননার রেজাল্টে আমরা খুশি ছিলাম কেননা ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে প্রচুর ব্যাঘ্র শাবকের ছবি উঠেছিল। বর্তমানে সেগুলি যেমন আরও বড় হয়েছে, তেমনই নতুন করে বাঘেদের প্রজননের ফলে আরও শাবকের জন্ম হয়েছে গভীর জঙ্গলে। তাই আমাদের অনুমান সুন্দরবনে বাঘেদের সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।” সূত্রের খবর, গত বছর সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প নিজেরা যে বাঘ গণনার কাজ করেছিল তাতে প্রায় দশটি বাঘের সংখ্যা বেশি মিলেছিল।

ফলে এবারের সর্বভারতীয় বাঘ শুমারিতে যে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে সে বিষয়ে আশাবাদী সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প।
তবে এবার বাঘেদের খাবার অর্থাৎ হরিণ, বুনো শুকর সহ অন্যান্য প্রাণী সঠিক মাত্রায় জঙ্গলে রয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখবেন বন কর্মীরা। সেই কারণে বাঘেদের এলাকার নদী, খাঁড়িগুলিতে ছোট নৌকা, ভুটভুটি নিয়ে টহল দেবেন বন আধিকারিকরা।