মাম্পি রায়,সাংবাদিক : সরকারি কর্মীদের সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করা নিয়ে নবান্নের জারি করা নির্দেশিকাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের তরফে জারি হওয়া সংশোধিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে সরকারি বোর্ড, নিগম, সরকারি অধীনস্ত সংস্থা এবং অন্যান্য প্যারাস্ট্যাটাল অর্গানাইজেশনের কর্মীদের ক্ষেত্রেও। ফলে শিক্ষাক্ষেত্র আপাতত এই নির্দেশিকার আওতার বাইরে থাকছে বলেই প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।

বুধবার নবান্নের তরফে যে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তাতে বলা হয়, সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মী সংবাদমাধ্যম বা সমাজমাধ্যমে মতামত বা মন্তব্য করতে পারবেন না। সেই নির্দেশ ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তা কি সমস্ত সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? বিশেষ করে শিক্ষক, অধ্যাপক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও কি এর আওতায় পড়বেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয় প্রশাসনিক ও শিক্ষামহলে।
এই আবহেই বৃহস্পতিবার নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নবান্ন জানায়, পূর্ববর্তী নির্দেশের পাশাপাশি সরকারি বোর্ড, নিগম ও অন্যান্য প্যারাস্ট্যাটাল সংস্থার কর্মীদেরও এই নির্দেশিকার আওতায় আনা হচ্ছে। যদিও শিক্ষাক্ষেত্রের উল্লেখ না থাকায়, সেই অংশে কিছুটা ধোঁয়াশা কাটল বলেই মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
রাজ্যের এই নতুন নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, শৃঙ্খলারক্ষার নামে সরকারি কর্মীদের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “সরকারি কর্মীদের বাক্স্বাধীনতা এবং সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারায় স্বীকৃত মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এই নির্দেশ কার্যকর হলে ডিএ-সহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলন করার পথও কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।”