মিলন কর্মকার, নিজস্ব সংবাদদাতা: পালাবদল হয়েছে রাজ্যে। পাঁচ মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও কি পুরনো হাওয়ার অপেক্ষায় প্রশাসনিক আধিকারিকের কেউ কেউ ? কারা এখনও বিজেপি সরকারের কথা শুনছেন না? তাঁদের জন্যই কি এবার প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে কড়া বার্তা? বাঁকুড়ার সোনামুখীর সভায় দাঁড়িয়ে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। তাঁর মুখে শোনা গেল এমন এক হুঁশিয়ারি, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা।

রাজ্যে পালাবদলের পর ৫ মাস কেটেছে। ঘাসফুলরা মাথা নুইয়ে পড়েছে। সেখানে পদ্মফুল মাথা উঁচু করেছে। কার্যত বলা যায়, চারিদিকে তাকালে বেশি পদ্মফুলকেই দেখা যায়। অনেকে যদি ঘাসফুল ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন, সেই অপেক্ষা আর না করারই কথা বলেন মন্ত্রী। সেই কথা যদিও হুঁশিয়ারির সুরেই জানালেন তিনি। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার সোনামুখীতে মিছিল ও সভা করে বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। উপস্থিত ছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
তবে এদিনের সভায় রাজ্যের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামির গলায় শোনা যায় হুঁশিয়ারির সুর। তিনি বলেন, এখনও অনেক প্রশাসনিক আধিকারিক আছেন যাঁরা বিজেপি ও সরকারের কথা শুনছে না। তাঁরা ভাবছেন আবার হাওয়াই চটি আসবে আর তাঁরা চটি চাটবেন। কিন্তু জিভে তেল দিয়ে থাকলেও হাওয়াই চটি আর আসবে না। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে একশ্রেণি প্রশাসনিক আধিকারিকদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের বন, পরিবেশ ও সমবায় দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। এখানেই শেষ নয়, পরে তাঁর দাবি এই ধরনের আধিকারিকদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এদিনের এই মিছিল ও সভা করে বিজেপি। এদিনের সভা থেকে বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর নিশানায় ছিল সিপিএম। সিপিএম এর নেতাদের একাংশকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আসা বলে উল্লেখ করে তাঁদের কার্যকলাপের কড়া সমালোচনা করেন সাংসদ।
এদিন সোনামুখীর সভা থেকে একদিকে যেমন অন্নপূর্ণা যোজনাকে সামনে রেখে সরকারের জনমুখী প্রচারের বার্তা দিল বিজেপি, অন্যদিকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ঘিরে তৈরি হয় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। সিপিএমকেও আক্রমণ করতে ছাড়লেন না বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তবে দিবাকর ঘরামির এই কড়া বার্তার পর প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর নজরদারি কি আরও বাড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার? আর বিরোধীদের আক্রমণ করে রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করাই কি এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য?