মঙ্গলবার ফের ইরান সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভারতের জাহাজগুলিকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই প্রণালীতে চলাচলের উপর ইরান যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তার আওতায় পড়বে না ভারতীয় জাহাজগুলি।
মানচিত্রদেখুন

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি বিষয়ক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ হায়াত-মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, মোট চারটি দেশকে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। ভারত ছাড়াও চিন, ইরাক এবং কাতারের জাহাজ কোনও বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার একটি বৈঠকে তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালীর ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যেই চারটি দেশকে ছাড় দিয়েছি। দেশগুলি হল ভারত, চিন, ইরাক ও কাতার। আমাদের দৃষ্টিতে এই দেশগুলির জাহাজ অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। আমেরিকারও এ নিয়ে কোনও আপত্তি নেই। এই দেশগুলির জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে যাতে আমরা ওষুধ আমদানি করতে পারি। চিনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিনের কাছ থেকে অর্থও নেওয়া হচ্ছে।” এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কাতারের মধ্যস্থতায় আসা একটি প্রস্তাব বিবেচনা করার জন্য ইরানের সামরিক নেতৃত্বকে চাপ দিচ্ছেন সে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা।
সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে মনে করা হচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে ফের সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি। তবে যুদ্ধের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দেশের সামরিক নেতৃত্বকে কাতারের দেওয়া প্রস্তাব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হল সংঘাত থামানো এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি কাতারের প্রতিনিধিরা তেহরানে গিয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘ আলোচনা চালানো নয়, বরং প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত মতামত জানা। রাজনৈতিক নেতারা যখন কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে সওয়াল করছেন, তখন ইরানের সামরিক কৌশলবিদদের একাংশ শান্তি বজায় রাখা নিয়ে সন্দিহান। তাঁদের আশঙ্কা, আমেরিকার সেনার সঙ্গে ফের সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে।