Rasuwa [Nepal], Aug 29 (ANI): Rescue operations for people trapped inside the tunnel of the Trishuli 3 'A' Hydropower Project underway, in Rasuwa on Saturday. (@PM_nepal_ X/ANI Photo)
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি হিমবাহ ধস (Glacial Collapse) ও ভয়াবহ হড়পা বানের (Flash Flood) কারণে একটি অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। কাদা, বরফ এবং পাথরের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে একের পর এক পাহাড়ি গ্রাম, সড়ক পরিকাঠামো এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

১. প্রাণহানি ও নিখোঁজদের সংখ্যা
মৃতের সংখ্যা: দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছুঁইছুঁই (অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে ৯৫০-এর বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে)।
নিখোঁজ: এখনও পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালের বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু ভারতীয় জলবিদ্যুৎ শ্রমিক এবং ভারত ও অন্যান্য দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন।
২. সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিক ও সংকট
ত্রিশূলি ও রাসুয়াগাধি প্রকল্প: হিমালয় সংলগ্ন এলাকাগুলির (বিশেষ করে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার) বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কাদা ও পাথর ঢুকে মুখ বন্ধ হয়ে গেছে।
আটকে শতাধিক শ্রমিক: ‘ত্রিশূলি ৩এ’ এবং ‘আপার ত্রিশূলি-১’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলিতে শতাধিক শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে। সুড়ঙ্গের প্রবেশ ও বাইরের পথ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ঢেকে যাওয়ায় উদ্ধারে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
ড্রোন ও থার্মাল স্পট অভিযান: সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রাণের অস্তিত্ব ও শ্রমিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

৩. উদ্ধারকাজ ও আন্তর্জাতিক সাহায্য
নেপাল সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল আকাশপথে হেলিকপ্টার ও ড্রোন নামিয়ে দুর্গম এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছ। ভারত ও চিন উভয় দেশই বিশেষ টানেল-রেসকিউ টিম (সুড়ঙ্গ উদ্ধার বিশেষজ্ঞ), উদ্ধারকারী সেনা ও ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে।
টানা বৃষ্টি, ভূমিধস এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্ধারকাজে বারবার বাধা আসছে।
উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, নিখোঁজ মানুষদের একটি বড় অংশ কাদার নিচে চাপা পড়ে থাকায় বা জলে ভেসে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।