কৌশিক চক্রবর্তী, নিজস্ব প্রতিনিধি: ২০২৬-এ তৃণমূলের বিসর্জন হবে বঙ্গোপসাগরে। দিঘার মন্দির ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র নিশানা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিঘায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত মন্দিরকে ঘিরে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মদিবস উপলক্ষে পূর্ব বর্ধমানের জেলা বিজেপির কার্যালয়ে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন শমীক। সেখানেই তাঁর কটাক্ষ, “জগন্নাথ দেব কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন সেটা ঠিক করবেন মুখ্যমন্ত্রী! জগন্নাথদেবও বলছেন আমাকে সাক্ষী রেখে তোমার বিসর্জন কলকাতার বাবুঘাটে নয়, বঙ্গোপসাগরেই হবে। আর ২০২৬-এর নির্বাচন মানেই তৃণমূলের বিসর্জন”।

বৃহস্পতিবার বর্ধমানে জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করেন শমীক ভট্টাচার্য। পরবর্তী জনসভায় যোগ দিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট উধাও হয়ে গিয়েছে। তার কোনও হদিশ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগামছাড়া দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকার নীরব, আর এই কারণেই কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছে বিজেপি।

এখানেই শেষ নয়, সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কেন্দ্রীয় প্রকল্প তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে বাস্তবায়িত হয়নি বলেও অভিযোগ তুললেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প সঠিকভাবে কার্যকর হতে না দেওয়া নিয়ে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়েও সরব হন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সবমিলিয়ে বর্ধমানে দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচনের অনুষ্ঠানের বক্তৃতায় দিঘার মন্দির থেকে শুরু করে শিক্ষা, জলপ্রকল্পে দুর্নীতি — সব ইস্যুই তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শ্রমিক ভট্টাচার্য বলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই কোটি ফিক্সড ডিপোজিট এর টাকা ওরাও হয়ে গেল। আজ অব্দি তার কোন ব্যবস্থা হলো না। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লাগাম ছাড়া দুর্নীতি নিয়ে জানি রাজ্য সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। আমরা কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবী জানাচ্ছি। সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি যে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছানোর ব্যবস্থা সেটা তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে বাস্তবায়িত হয়নি বলেও জোরালো আওয়াজ তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। কোন কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে দেওয়া হয়নি বলেও দাবি রাখেন তিনি।