Lucknow, Sep 26 (ANI): Uttar Pradesh Congress workers and supporters stage a protest against the alleged Chief Election Commissioner, Gyanesh Kumar state Election Commission office, in Lucknow on Friday. (ANI Photo)
বাড়ির মুল ফটকে ,দেওয়ালে লেখা গদ্দার-চোর। জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। তবে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছে দিকে দিকে। চলছে পদত্য়াগের দাবি। কারা করছেন এই বিক্ষোভ? কি নিয়ে এই বিক্ষোভ? কার বিরুদ্ধেই বা এই বিক্ষোভ ? জেনে নিন বিস্তারিত।

গত শুক্রবার দেশ জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে কংগ্রেস। সোমবারও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।এবার আগরায় জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ দেখালেন কংগ্রেসকর্মীরা। সোমবার কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা জড়ো হন আগরার বিজয়নগরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বাড়ির সামনে। বাড়ির বাইরে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা।জ্ঞানেশ কুমারের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান তোলার পাশাপাশি পোস্টার সাঁটিয়ে দেওয়ার পর, বাড়ির মূলফটক এবং বাইরের দেওয়াল কালো কালি দিয়ে স্প্রে করে ‘গদ্দার’ লিখে দেন বিক্ষোভকারীরা। যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ‘এসআইআর’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে এরকমই বেনজির উত্তেজনার সাক্ষী রইল দেশ।
যুব কংগ্রেস এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে লিখেছে,”আগ্রায় কংগ্রেস কর্মীরা ‘গদ্দার জ্ঞানেশ’-এর বাড়িতে কালি ছিটিয়ে দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে জ্ঞানেশের সঙ্গে যোগসাজশে মোদী ও শাহ যেভাবে দেশের বিভিন্ন অংশে নির্বাচন লুঠ করেছেন, তা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতা। আমরা নিশ্চিত করব যে জ্ঞানেশ যেন শাস্তি পান।”
কেরল ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস জ্ঞানেশ কুমার ৷ ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর গত বছর মানে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের ২৬ তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক কাজ নিয়ে কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাতের আবহে সোমবার এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত হয়। কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং দেশের অন্য অংশে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ করছে ৷ তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন দেশের শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে লাগাতার কাজ করেছে।লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এর আগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অসাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। কমিশনের এই ধরনের পদক্ষেপকে দেশদ্রোহিতা বলেও আখ্যা দিয়েছেন রাহুল।
সম্প্রতি সর্বভারতীয় এক সংবাদপত্রের রিপোর্টে প্রকাশ পায় যে, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত অন্তত ১৪টি নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ভোটার ডেটাবেস হস্তান্তরের বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কমিশনের অভ্যন্তরেই চরম লিখিত আপত্তি নথিবদ্ধ করেছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এর পরেই জাতীয় রাজনীতিতে বিস্ফোরণ ঘটে।যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে পালটা দাবি করে বারবার বলা হয়েছে যে, একাধিক সদস্য বিশিষ্ট সাংবিধানিক সংস্থায় অভ্যন্তরীণ আলোচনা বা লিখিত প্রশ্ন করা একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ এবং স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন সংক্রান্ত চূড়ান্ত আদেশসমূহ সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।
তবে এই পরিস্থিতিতেও এসআইআর প্রক্রিয়া ও জ্ঞানেশ কুমারের ভুমিকা নিয়ে সন্তুষ্টিতে ভাটা পড়েনি বিজেপির অন্দরে।রবিবার, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচন কমিশন এবং এসআইআর-এর উপর আক্রমণের জন্য কংগ্রেস ও তার জোট শরিকদের সমালোচনা করেছেন। আদিত্যনাথের অভিযোগ, কংগ্রেস ও তার জোট সঙ্গীরা রাজনৈতিক স্বার্থে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছেন ৷ তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও এসআইআর-এর সমালোচনার জন্য তাদের দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।এর আগে একই কাজ করেছেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতারা । বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভ়ট্টাচার্য দাবি করেন, জ্ঞানেশের নেতৃত্বে বাংলায় পাঁচ দশক বাদে যথার্থ নির্বাচন হয়েছে । মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন । তাই জ্ঞানেশকে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত করা উচিত ।
এদিকে জ্ঞানেশের ইস্তফার দাবিতে সুর চড়িয়েছে তরুণদের অরাজনৈতিক মঞ্চ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ । মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ইস্তফা না-দিলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা। ‘ককরোচদের’ নেতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেম, প্রথমে মুম্বই থেকে এই আন্দোলন শুরু হবে। তার পরে দেশের প্রতিটি শহরে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।তবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বাই পুলিশ। এরপরই দীপকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি তাদের “প্রতিবাদের অধিকার” অস্বীকার করা হয়, তবে সিজেপি গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বাইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ শুরু করবে।
এরই মধ্যে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। সুপ্রিম কোর্টে মামলাকারী শৈলেন্দ্রমনি ত্রিপাঠীর দাবি, জ্ঞানেশকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনা দরকার। আর এই পরিস্থিতিতে বিজেপি এবং কেন্দ্রের উপর চাপ তৈরির চেষ্টায় পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছে কংগ্রেস। গত শুক্রবার দেশ জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে তারা। সোমবারও বিভিন্ন রাজ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চালায় কংগ্রেস। পরিশেষে নির্বাচন কমিশনারের আগ্রার বাড়ির গেটে কালো কালিতে লেখা হল ‘গদ্দার, ভোট চোর’। যা রীতিমতো চাপে ফেলেছে জ্ঞানেশ কুমারকে। মত রাজনৈতিক মহলের।