নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : আদালতের নির্দেশে ২০১৬-এর নবম, দশম, একাদশ, দ্বাদশ শিক্ষক নিয়োগের ‘অযোগ্যদের’ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করল কমিশন! আদালতের নির্দেশমত সব কাজ হবে আগেই তার ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ১৮০৬ জন ‘দাগি’ র পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন।

আদালতের নির্দেশে ‘অযোগ্য’ তথা দাগীদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। নতুন করে চলছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া। তার মাঝেই অযোগ্যদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আবার নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে কমিশন। পরীক্ষার আগে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট বারবার সতর্ক করে, যেন একজন দাগিও নতুন পরীক্ষায় বসতে না পারে। কিন্তু তারপরও কমিশনের ইন্টারভিউয়ের তালিকায় ‘দাগি’দের নাম থাকার অভিযোগ ওঠে। যা নিয়ে মামলার জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। তারপর গত ১৯ নভেম্বর স্কুল সার্ভিস কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি সিন্হা বলেন, আরও বিস্তারিত তথ্য দিয়ে ‘দাগি’দের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুধুমাত্র হাইকোর্ট নয়, বুধবার সুপ্রিম কোর্টও জানিয়ে দেয়, দাগিদের যাবতীয় বিবরণ-সহ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এসএসসিকে। সেই নির্দেশিকার পর বৃহস্পতিবার তালিকা প্রকাশ করল কমিশন। এদিন ১ হাজার ৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকদের অভিভাবকদের নাম ও জন্মতারিখও। যদিও সেখানে উল্লেখ নেই তিনি কোন স্কুলে শিক্ষকতা করছিলেন কিংবা তিনি কোন ক্যাটেগরিতে পড়েন, যেমন জেলারেল, এসসি বা এসটি। তবে এর আগে কমিশনের তরফ থেকে দাগিদের যে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়ে ছিল তার থেকে বেশি তথ্য সংযোজন করে তালিকা প্রকাশ করল কমিশন।
বৃহস্পতিবার দাগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বের করার আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানান, “দাগিদের লিস্ট বের করতে বলেছে কোর্ট। আদালত যা নির্দেশ দিচ্ছে এসএসসি সেটা পালন করছে। স্বচ্ছভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর। যোগ্যদের কেউ যাতে বাদ না যায় সেবিষয়ে নজর রয়েছে আমাদের সবসময়।” এদিন এসএসসি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেন, “কে কী বলল তার সঙ্গে আইনের কোনও সম্পর্ক নেই। আর সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে কথা বলার ক্ষমতা আমার নেই।”শিক্ষামন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের কিছুক্ষণ পরই দাগীদের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করে কমিশন।
ব্যাপক দূর্নীতির কারণে বাতিল হয়েছে ২০১৬ সালের প্যানেল। আদালতের নির্দেশে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্রাত্য জানান, “এসএসসি কী ভাবে কবে নিয়োগ প্রক্রিয়া করবে সেটা তাদের উপর ছাড়ুন। ভারতবর্ষের কোথাও এভাবে পরীক্ষা হয়েছে বলে জানা নেই যেভাবে এসএসসি এবার পরীক্ষা নিয়েছে। কার্বন কপি দেওয়া, পরীক্ষার সময় নম্বর সবটা সামনে তুলে দেওয়া, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে এসএসসি। এভাবে ভারতবর্ষের কোথাও পরীক্ষা হয়েছে বলে মনে হয় না।” প্রসঙ্গত চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আদালতের নির্দেশ মতই কাজ করে চলেছে এসএসসি।