আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে সাইবার হামলার অভিযোগ। হ্যাকারদের নিশানায় মার্কিন ফেডারেল নির্বাচন কমিশন (এফইসি)-এর অনলাইন তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থা। এই ঘটনায় সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে কমিশনের ওয়েবভিত্তিক পরিষেবা। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ভোটদানের প্রক্রিয়ায় এর কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই জানিয়েছে কমিশন।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি, সোমবার রাতে নির্বাচনী প্রচারের খরচ সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক একটি ইমেলে সাইবার হামলার আশঙ্কার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, ‘দুষ্কৃতীরা এফইসি-র ব্যবস্থায় ঢোকার চেষ্টা করছে। তাই সাময়িক ভাবে ওয়েবভিত্তিক পরিষেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।’ কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করেছে। পরে এফইসি জানায়, সমস্যাটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমাধানের কাজ চলছে।
এই বিপর্যয়ের জেরে রাজনৈতিক দল ও নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলি বাধ্যতামূলক ভাবে ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খরচের যে হিসাব জমা দেয়, তাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে আগে জমা পড়া নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে খোঁজার সুযোগ ছিল। এফইসি নির্বাচনী প্রচারের অর্থের হিসাব রাখে, সরাসরি ভোট পরিচালনা করে না। ফলে ভোটারদের ভোটদানে বাধা পড়ার আশঙ্কা নেই।
এই নির্বাচনেই ঠিক হবে, কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি সভা ও সেনেটে—নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। প্রতিনিধিসভার ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হবে। ফলে ট্রাম্পের আগামী দিনের আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও অনেকটা নির্ভর করছে ফলাফলের উপর।
এরই মধ্যে নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে সরব ট্রাম্প। ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দোষী সাব্যস্ত করার মতো তথ্য দিলে ১০ লক্ষ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে সিবিএস নিউজের একটি সমীক্ষায় ইঙ্গিত, প্রতিনিধিসভায় ২২৯টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে ডেমোক্র্যাটরা। মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনীতির উদ্বেগও ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।
হ্যাকিংয়ের ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের আগে এই সাইবার বিপর্যয় তাই আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।