যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত। মঙ্গলবার ভোররাতে ইউক্রেনের একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া। হামলায় অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সাবস্টেশন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে আমেরিকার কাছে আরও সামরিক সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি।

মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন জ়েলেনস্কি। তাঁর দাবি, রাতভর ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে ২৮৯টি ড্রোন, ১৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫৯টি ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রুশ সেনা। ওডেসা, খারকিভ, চেরকাসি, ঝিতোমির, ভিন্নিৎসিয়া, দিনিপ্রো-সহ একাধিক এলাকায় হামলা হয়েছে। বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত। জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে বেশ কয়েকটি এলাকায়।
খারকিভের একটি ক্লিনিক্যাল হাসপাতালেও সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ জ়েলেনস্কির। ঘটনায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগেরও ক্ষতি হয়েছে। অন্য দিকে, জ়াপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখায় উদ্ধারকাজ চলাকালীন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা।
আমেরিকায় কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনেই রাশিয়ার এই হামলার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ করে তাঁর বার্তা, মস্কোর এই আগ্রাসন উপেক্ষা করা উচিত নয়। ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষায় আরও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ দিকে, যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর আবু ধাবিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকে মধ্যস্থতা করবে ওয়াশিংটন। আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা, সংঘর্ষ প্রশমন এবং শান্তিচুক্তির সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ফলে এক দিকে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি, অন্য দিকে শান্তির চেষ্টা—দুইয়ের মাঝেই অনিশ্চিত ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ।