আমেরিকায় শুরু হল হাইভোল্টেজ মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম)। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনের ফলের উপর নির্ভর করছে আগামী দু’বছর মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। বর্তমানে কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি সভা (হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভস) এবং সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের হাতে। তবে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত একাধিক পূর্বাভাসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের সামনে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

এ বারের নির্বাচনে প্রতিনিধি সভার ৪৩৫টি আসনের সব ক’টিতেই ভোট হচ্ছে। পাশাপাশি সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন। ৩৬টি প্রদেশে নতুন গভর্নরও বেছে নেবেন ভোটারেরা। নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য আমেরিকানের সংখ্যা ২৩ কোটিরও বেশি। এবিসি নিউজ়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আগাম ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মত জানিয়েছেন ৫ কোটি ৭০ লক্ষের বেশি নাগরিক।
কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের সেনেটে অন্তত চারটি এবং প্রতিনিধি সভায় তিনটি আসন বাড়াতে হবে। পরিসংখ্যানবিদ নেট সিলভারের ফ্লিপআর ২০২৬ নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, টেক্সাস, ওহায়ো, মিশিগান, মেন এবং আইওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা। টেক্সাসে ৩.৩ শতাংশ, ওহায়োয় ৩ শতাংশ, মিশিগানে ৪.৯ শতাংশ এবং মেনে ৩.৯ শতাংশের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
সেনেটের লড়াইয়েও নজর রয়েছে মিশিগান, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মেন, নিউ হ্যাম্পশায়ার এবং নর্থ ক্যারোলাইনার দিকে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে দুই দলের প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা।
আমেরিকার বিভিন্ন প্রদেশে ভোটগ্রহণ ও গণনার সময়ও আলাদা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই প্রাথমিক ফল সামনে আসতে পারে। তবে ডাকযোগে পাঠানো ভোট এবং অন্যান্য ব্যালট গণনা করতে কয়েক দিন, এমনকি কয়েক সপ্তাহও লাগতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।